ভারত কি বিদেশের ইশারায় চলছে, মোদীকে নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক দাবি

তামিলনাড়ুর এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। রাহুলের অভিযোগ, মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এবং কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন।
নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের রাজনীতি
রাহুল গান্ধী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, জেফরি এপস্টাইনের ফাইল এবং আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের সূত্র ধরেই মোদীকে নিয়ন্ত্রণ করছে ওয়াশিংটন। জনসভায় তিনি বলেন, ট্রাম্পের নির্দেশেই যেন ভারতের নীতিনির্ধারণ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই তথাকথিত ‘পরাধীনতা’ ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সংসদের সাম্প্রতিক চিত্র তুলে ধরে রাহুল দাবি করেন, বিরোধীদের মুখোমুখি হওয়ার আত্মবিশ্বাস হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তামিলনাড়ু নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তামিলনাড়ুর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রসঙ্গও। রাহুল গান্ধীর মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে মোদীকে চালনা করছেন, প্রধানমন্ত্রীও ঠিক একইভাবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান। আর এই লক্ষ্যপূরণেই তিনি এআইএডিএমকে (AIADMK) দলকে রাজ্যে ক্ষমতায় দেখতে আগ্রহী। এই রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে কেন্দ্র তামিলনাড়ুর স্বায়ত্তশাসন খর্ব করতে চাইছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তবে রাহুলের এই অভিযোগকে শুরুতেই খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এপস্টাইন ফাইলের তথ্যকে একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর ভিত্তিহীন মন্তব্য হিসেবে বর্ণনা করে সরকার পক্ষ জানিয়েছে, এই ধরনের দাবি অত্যন্ত অপমানজনক এবং ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার যোগ্য। এই বাগযুদ্ধ আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রাহুল গান্ধীর।
- এপস্টাইন ফাইল এবং আদানি কানেকশনকে এই নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতেই প্রধানমন্ত্রী এআইএডিএমকে-কে সমর্থন করছেন বলে দাবি।
- কেন্দ্রীয় সরকার এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবমাননাকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে।