ছেলের হাতে দেশের সুরক্ষা, মায়ের হাতে হাতকড়া: আমেরিকায় ৩৫ বছর কাটিয়েও চরম হেনস্থা ভারতীয় মহিলার!

ছেলের হাতে দেশের সুরক্ষা, মায়ের হাতে হাতকড়া: আমেরিকায় ৩৫ বছর কাটিয়েও চরম হেনস্থা ভারতীয় মহিলার!

দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে আমেরিকায় বসবাস এবং বিচার বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পর চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ৫৩ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মিনু বাত্রা। টেক্সাসের ভ্যালি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সম্প্রতি তাকে আটক করে মার্কিন ইমিগ্রেশন বিভাগ (ICE)। চার সন্তানের জননী এবং বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত এক জওয়ানের মা হওয়া সত্ত্বেও, মিনুর বর্তমান পরিস্থিতি মার্কিন অভিবাসন আইনের কঠোরতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

মানবিক সংকট ও আইনি জটিলতা

মিনু বাত্রার আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, আটকের পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা তাকে খাবার ও জল থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হওয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগলেও তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। ২০০০ সালে তিনি ‘উইথহোল্ডিং অফ রিমুভাল’ মর্যাদা পেলেও বর্তমান প্রশাসনের কড়া নীতির কারণে তার সেই সুরক্ষা কবচ এখন প্রশ্নের মুখে। ফলে বৈধ কর্মসংস্থানের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তাকে কোনো তৃতীয় দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।

প্রভাব ও বিচারিক হস্তক্ষেপ

পাঞ্জাবি, হিন্দি ও উর্দু ভাষার দক্ষ অনুবাদক হিসেবে মিনুর অনুপস্থিতি স্থানীয় বিচার ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। তার এই আটকাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা ‘হেবিয়াস কর্পাস’ পিটিশনের প্রেক্ষিতে টেক্সাস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইতিমধ্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে নোটিশ জারি করেছে। আগামী ২১ এপ্রিল, ২০২৬-এর মধ্যে কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার রায় আমেরিকায় বসবাসরত অনথিভুক্ত বা বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

এক ঝলকে

  • মিনু বাত্রা ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর ইমিগ্রেশন হেফাজতে আটক হয়েছেন।
  • তার এক সন্তান বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
  • পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও মানবিক সুযোগ-সুবিধা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
  • আদালত আগামী ২১ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে জবাবদিহির নির্দেশ দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *