অমানবিক ঘটনার সাক্ষী! মাত্র একটি রসগোল্লা খাওয়ার অপরাধে শিশুকে জ্বলন্ত চুল্লিতে নিক্ষেপ!

অমানবিক ঘটনার সাক্ষী! মাত্র একটি রসগোল্লা খাওয়ার অপরাধে শিশুকে জ্বলন্ত চুল্লিতে নিক্ষেপ!

উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলায় এক ভয়াবহ ও অমানবিক ঘটনার সাক্ষী হলো দেশ। আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে সামান্য রসগোল্লা খাওয়ার অপরাধে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে জ্বলন্ত তন্দুর চুল্লিতে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে এক রাঁধুনি। দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র চমন বর্তমানে লখনউ মেডিকেল কলেজে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। মা-হারা শিশুটি তার দিদিমার সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে এমন নৃশংস লালসার শিকার হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

ঘটনার নৃশংসতা ও কারণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বিয়ের ভোজ চলাকালীন শিশুটি বারবার রসগোল্লা খাচ্ছিল। এটি দেখে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন সেখানে কর্মরত ক্যাটারিং কন্ট্রাক্টর। রাগের মাথায় তিনি শিশুটিকে পাজা কোলে তুলে নিয়ে পাশে থাকা জ্বলন্ত তন্দুর চুল্লির ওপর ছুড়ে মারেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা শিশুটির শরীর গ্রাস করে ফেলে। উপস্থিত অতিথিরা চিৎকার শুনে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার আগেই মুখ থেকে কোমর পর্যন্ত শরীরের উপরিভাগ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।

আইনি ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পলাতক। শিশুটির মামার অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্বর্নিমা সিং জানিয়েছেন, অপরাধীকে গ্রেফতার করতে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য একটি মিষ্টির জন্য একজন অবোধ শিশুর প্রতি এমন পাশবিক আচরণে স্তম্ভিত পুরো এলাকা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

এক ঝলকে

  • উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলায় বিয়ের অনুষ্ঠানে রসগোল্লা খাওয়া নিয়ে বিবাদের জেরে এই নৃশংসতা।
  • ১১ বছরের শিশুটিকে রাগের মাথায় জ্বলন্ত তন্দুর চুল্লিতে ছুড়ে ফেলে দেয় ঘাতক রাঁধুনি।
  • গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে লখনউ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন।
  • অভিযুক্ত পলাতক হলেও তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *