সহকর্মী নারীকে ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করায় ২ লাখ টাকা জরিমানা!

লন্ডনের একটি হাসপাতালে কর্মরত এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারীকে বারংবার ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করার দায়ে এক পুরুষ সহকর্মীকে বড় অংকের জরিমানা গুনতে হয়েছে। ওয়াটফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল এই রায় দিয়ে স্পষ্ট করেছে যে, পেশাদার কর্মক্ষেত্রে কারো অনিচ্ছাসত্ত্বেও এমন সম্বোধন কেবল অভদ্রতা নয়, বরং আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ৬১ বছর বয়সী ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মী বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অভিযুক্ত নার্স তাকে এই নামে ডেকে হেনস্তা করে আসছিলেন।
পেশাদারিত্ব বনাম ব্যক্তিগত সংস্কৃতি
আদালতে শুনানির সময় অভিযুক্ত নার্স দাবি করেন, ঘানার সংস্কৃতিতে বয়োজ্যেষ্ঠ নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ‘আন্টি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তবে বিচারক জর্জ অ্যালিয়ট এই যুক্তি খারিজ করে দেন। আদালত জানায়, কর্মক্ষেত্রে একজন সহকর্মীর আপত্তির পরেও তাকে এমন ঘরোয়া বা বয়স নির্দেশক শব্দে ডাকা সম্মান নয়, বরং ‘বয়স ও লিঙ্গ বৈষম্য’ এবং মানসিকভাবে হেনস্তার শামিল।
জরিমানা ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভুক্তভোগী নারীর মানসিক অশান্তি ও আসাম্মানের কথা বিবেচনা করে লন্ডনের এনএইচএস (NHS) ট্রাস্টকে ১৪২৫ পাউন্ড বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের ফলে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে পেশাদার আচরণবিধি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। অনেক সময় যে শব্দগুলোকে আমরা ‘মজা’ বা ‘সম্মান’ হিসেবে দেখি, তা অন্যের জন্য অস্বস্তিকর হলে আইনি পরিণতির কারণ হতে পারে।
এক ঝলকে
- লন্ডনে সহকর্মী নারীকে বারবার ‘আন্টি’ বলায় এক পুরুষ নার্সকে ২ লাখ টাকা জরিমানা।
- ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৬১ বছর বয়সী নারী কর্মীর আপত্তির ভিত্তিতে আদালত এই রায় দেয়।
- ‘আন্টি’ সম্বোধনকে কর্মক্ষেত্রে বয়স ও লিঙ্গ বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
- পেশাদার পরিবেশে অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত সম্বোধন এড়িয়ে চলার বার্তা দিয়েছে এই মামলা।