বাড়িতে আসছে সরকারি টিম, রেডি রাখুন ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর! তথ্য দিতে অস্বীকার করলেই বড় বিপদ?

দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত জনসংখ্যা গণনার প্রাথমিক প্রক্রিয়া। নয়াদিল্লির চাণক্যপুরী এলাকার বাপু ধাম সোসাইটিতে এনডিএমসি শিক্ষকদের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন আধিকারিকরা। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো প্রতিটি পরিবারকে মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তথ্য সংগ্রহের এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর্মকর্তাদের হাতে মোবাইল ফোন ও গলায় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৩৩টি প্রশ্নের তালিকায় কী কী থাকছে?
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের প্রশ্নাবলীতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। কেবল পরিবারের সদস্য সংখ্যা জানাই নয়, বরং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান বুঝতে গভীরে প্রবেশ করছে প্রশাসন। এই তালিকায় থাকছে পরিবারের প্রধান খাদ্যশস্য, রান্নার জ্বালানির ধরন, শৌচাগারের সুবিধা এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য। এছাড়া বাড়িতে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার আছে কি না এবং বাড়ির ছাদ ও দেওয়াল কী উপাদানে তৈরি, সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যও রেকর্ড করা হচ্ছে।
সাইবার আতঙ্ক ও প্রশাসনের সতর্কতা
তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে আধিকারিকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি অংশ সাইবার জালিয়াতির ভয়ে ফোন নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ তথ্য দিতে সরাসরি অস্বীকার করায় কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গণনাকারীরা নিজেদের পরিচয়পত্র যাচাই করার সুযোগ দিচ্ছেন এবং সংগৃহীত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার পূর্ণ আশ্বাস দিচ্ছেন। যারা কর্মব্যস্ততার কারণে সপ্তাহে সময় দিতে পারছেন না, তাদের জন্য রবিবারে বিশেষ ড্রাইভের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি প্রকল্পের সঠিক বণ্টন এবং নাগরিকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া। সঠিক তথ্য প্রদান না করলে বা অসহযোগিতা করলে ভবিষ্যতে সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বাড়ি পরিদর্শনের পর দেওয়ালে একটি নির্দিষ্ট নম্বর লিখে দেওয়া হচ্ছে, যা এই প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তি নিশ্চিত করে।
এক ঝলকে
- দেশজুড়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে জনশুমারি ও গৃহ গণনার প্রাথমিক কাজ।
- খাদ্যাভ্যাস, প্রযুক্তি ও আবাসনসহ মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে প্রতিটি পরিবারকে।
- পরিচয়পত্র দেখিয়ে এবং গোপনীয়তার আশ্বাস দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন সরকারি কর্মীরা।
- উচ্চপদস্থ ও কর্মব্যস্ত ব্যক্তিদের সুবিধার্থে ছুটির দিনেও চলবে তথ্য সংগ্রহের বিশেষ অভিযান।