ভোট শুরুর মুখেই কলকাতায় আয়কর হানা! “লড়তে না পেরে কাপুরুষের মতো এজেন্সি পাঠাচ্ছে বিজেপি”, হুঙ্কার মমতার
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/04/02/mamata-2026-04-02-17-09-03.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ঠিক আগমুহূর্তে খাস কলকাতায় বড়সড় অভিযানে নামল আয়কর দপ্তর। শুক্রবার সকাল থেকে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার এবং ভবানীপুর কেন্দ্রের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনের অন্যতম প্রস্তাবক মিরাজ শাহের বাড়িতে একযোগে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। এছাড়া দক্ষিণ কলকাতায় আরও এক তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বাড়িতেও হানা দেয় আয়কর বিভাগ। ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে এই কেন্দ্রীয় সক্রিয়তা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক লড়াই বনাম এজেন্সির সক্রিয়তা
এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন। নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে বিজেপি এখন কাপুরুষের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে লেলিয়ে দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূল নেতাদের ভয় দেখাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে এতে বিজেপির কোনো লাভ হবে না। অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, আয়কর দপ্তর একটি স্বাধীন সংস্থা এবং দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভোটের ময়দানে গভীর প্রভাবের আশঙ্কা
আগামী ২৯শে এপ্রিল রাসবিহারী ও ভবানীপুর উভয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের হানা ভোটারদের জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে তুলে ধরে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিজেপি দুর্নীতির ইস্যুকে হাতিয়ার করে শাসকদলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভ এবং পাল্টাপাল্টি বাগযুদ্ধে নির্বাচনের উত্তাপ এখন তুঙ্গে।
এক ঝলকে
- নির্বাচনের মুখে তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবক মিরাজ শাহের বাড়িতে আয়কর হানা।
- কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
- দুর্নীতির কারণে স্বাধীন সংস্থা হিসেবে আয়কর দপ্তর তল্লাশি চালাচ্ছে বলে বিজেপির দাবি।
- ২৯শে এপ্রিল ভোটের আগে এই অভিযান কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছে।