৮৫ বছর পর কাশ্মীরে ‘কুম্ভ’ প্রত্যাবর্তন: সিন্ধু-ঝিলামের সঙ্গমে পুণ্যস্নানে মাতবেন লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী!

৮৫ বছর পর কাশ্মীরে ‘কুম্ভ’ প্রত্যাবর্তন: সিন্ধু-ঝিলামের সঙ্গমে পুণ্যস্নানে মাতবেন লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী!

কাশ্মীর উপত্যকায় দীর্ঘ ৮৫ বছর পর আবারও আয়োজিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘দশর মহাকুম্ভ’। আগামী ১৫ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত উত্তর কাশ্মীরের গান্ডেরবাল জেলার শাদিপোরায় ১০ দিনব্যাপী এই মহোৎসব চলবে। সিন্ধু ও বিতস্তা (ঝিলাম) নদীর পবিত্র সঙ্গমস্থলে আয়োজিত এই মেলায় দেশ-বিদেশের প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ পুণ্যার্থী সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯৪১ সালের পর নানা কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই প্রাচীন প্রথাটি পুনরুজ্জীবিত করতে স্বামী কালিকাানন্দ সরস্বতী ও তাঁর মঠ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

বিরল মহাজাগতিক সংযোগ ও ধর্মীয় গুরুত্ব

কাশ্মীরি কুন্ত বা ‘দশর কুন্ত’ ভারতের অন্যান্য কুন্ত মেলার চেয়ে স্বতন্ত্র। এটি মূলত দশটি বিশেষ মহাজাগতিক ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় অবস্থানের এক বিরল যোগসূত্রের ওপর নির্ভর করে। সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রের নির্দিষ্ট অবস্থানসহ ১০টি বিশেষ শর্ত পূরণ হলেই কেবল এই মেলার তিথি নির্ধারিত হয়। শাদিপোরা সঙ্গমস্থলের মধ্যবর্তী একটি ছোট দ্বীপে অবস্থিত পাঁচশ বছরের পুরনো ‘প্রয়াগ চিনার’ গাছটিকে কেন্দ্র করেই মূল আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, এই পবিত্র স্থানেই মহাত্মা গান্ধী ও অটল বিহারী বাজপেয়ীর অস্থি বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের পুনরুত্থান

এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এক অনন্য সম্প্রীতির চিত্র ফুটে উঠেছে। স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা পুণ্যার্থীদের পারাপারের জন্য নৌকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করে এই উৎসবে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। নীলমত পুরাণ ও মহাভারতের মতো প্রাচীন গ্রন্থেও এই সঙ্গমস্থলের আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর নির্বাসিত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য এই মেলা নিজেদের শেকড়ে ফেরার এক আবেগঘন সুযোগ তৈরি করেছে।

এক ঝলকে

  • কাশ্মীরের শাদিপোরা সঙ্গমস্থলে ৮৫ বছর পর ১৫-২৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দশ দিনব্যাপী কুন্ত মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
  • এটি ভারতের চারটি মূল কুন্তের বাইরে কাশ্মীরের নিজস্ব প্রাচীন ঐতিহ্য, যা ১০টি বিরল মহাজাগতিক সংযোগের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত হয়।
  • মেলার মূল কেন্দ্রবিন্দু ৫১০ বছরের প্রাচীন একটি রহস্যময় চিনার গাছ এবং এর নিচে থাকা শিবলিঙ্গ।
  • স্থানীয় মুসলিম ও কাশ্মীরি পণ্ডিতদের যৌথ অংশগ্রহণে এই মেলা ‘কাশ্মীরিয়াত’ বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *