পুলিশ হেফাজতে মারধর নাকি জিনের কারসাজি? যুবকের দাবি শুনে রীতিমতো স্তম্ভিত তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা

উত্তরপ্রদেশের বিহার থানা চত্বরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের অন্দরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে এক যুবককে অস্বাভাবিকভাবে চিৎকার করতে ও গালাগালি দিতে দেখা যায়। অভিযোগ উঠেছে, অসংলগ্ন আচরণের দায়ে আটক ওই যুবককে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন মারধর করেছেন খোদ পুলিশ আধিকারিকরা। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে যুবকটি যে দাবি করেছে, তাতে চোখ কপালে উঠেছে প্রশাসনের।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর দাবি
ঘটনার তদন্তে নেমে সার্কেল অফিসার (সিও) মধুপনাথ মিশ্র সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মী, ভুক্তভোগী যুবক এবং তার পরিবারের বয়ান রেকর্ড করেছেন। বয়ান দেওয়ার সময় যুবকটি স্পষ্ট জানায় যে, তাকে পুলিশ মারধর করেনি, বরং কোনো এক ‘জিনের’ হাতে সে প্রহৃত হয়েছে। যুবকের এমন অদ্ভুত দাবিতে হতভম্ব তদন্তকারীরা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাহুল সিং জানিয়েছেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় দুর্গাগঞ্জের ওই যুবককে থানায় আনা হয়েছিল। সেই সময়েরই কোনো ভিডিও বর্তমানে ভাইরাল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত তদন্তের পথে পুলিশ
ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি কোনোভাবে এডিট করা হয়েছে কি না অথবা কে এটি প্রথম ছড়িয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশি হেফাজতে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, ভুক্তভোগীর নিজ মুখে অলৌকিক শক্তির ওপর দায় চাপানো পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন দিকে মোড় দিয়েছে। দ্রুত এই তদন্ত রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এক ঝলকে
- গত ১৩ এপ্রিল সামাজিক মাধ্যমে বিহার থানার একটি মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়।
- তদন্ত চলাকালীন ভুক্তভোগী যুবক দাবি করেছেন যে তাকে কোনো পুলিশ নয় বরং ‘জিনে’ পিটিয়েছে।
- পুলিশ ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- ঘটনার কারণ হিসেবে যুবকের মানসিক স্থিতি নাকি পুলিশি চাপ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।