‘আগে আপনি আচরি ধর্ম’, মোদীকে কড়া জবাব তৃণমূলের

‘আগে আপনি আচরি ধর্ম’, মোদীকে কড়া জবাব তৃণমূলের

সংসদে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ না হওয়াকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-বিরোধী সংঘাত এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিলটি আটকে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলিকে নিশানা করে ‘সৎ চেষ্টার ভ্রূণহত্যা’র অভিযোগ আনেন। মোদীর এই আক্রমণের পাল্টা জবাবে সরব হয়েছে তৃণমূল শিবির। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, মহিলাদের অধিকার নিয়ে কথা বলার আগে বিজেপির উচিত নিজেদের দলের অভ্যন্তরে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে বিজেপিকে টেক্কা

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিজেপি মুখে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথা বললেও বাস্তবে তাদের কাজের প্রতিফলন উল্টো। লোকসভায় বিজেপির ২৪০ জন সাংসদের মধ্যে মহিলা মাত্র ৩১ জন, যা শতাংশের হিসেবে মাত্র ১৩। অন্যদিকে, তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদের মধ্যে ১১ জনই মহিলা, যা শতাংশের বিচারে ৩৮ শতাংশ। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আগে আপনি আচরি ধর্ম, পরে পরকে শেখাও।” অর্থাৎ, নিজের দলে পর্যাপ্ত মহিলা প্রতিনিধি না রেখে অন্যদের দিকে আঙুল তোলা সাজে না।

রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ

বিরোধীদের দাবি, এই বিলের আড়ালে বিজেপি আসলে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার গূঢ় রাজনৈতিক কৌশল সাজিয়েছে। তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেছেন, মোদী সরকার নারীদের অধিকারকে স্রেফ একটি রাজনৈতিক ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যের মতে, আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বচ্ছ ধারণার অভাব রয়েছে এবং তিনি সুকৌশলে দায় এড়িয়ে বিরোধীদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।

প্রভাব ও রাজনৈতিক সংঘাত

এই বিতর্কের ফলে আসন্ন নির্বাচনগুলোতে মহিলা সংরক্ষণ একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে প্রধানমন্ত্রী যখন বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ প্রমাণ করতে মরিয়া, তখন বিরোধীরা পরিসংখ্যান দিয়ে বিজেপির ‘সদিচ্ছার অভাব’ জনসমক্ষে তুলে ধরছে। এই সংঘাতের ফলে আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ প্রক্রিয়াটি আরও জটিল আইনি ও রাজনৈতিক আবর্তে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • লোকসভায় বিজেপির মহিলা সাংসদ মাত্র ১৩ শতাংশ হলেও তৃণমূলের ক্ষেত্রে এই হার ৩৮ শতাংশ।
  • মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ায় মোদী বিরোধী দলগুলিকে ‘ভ্রূণহত্যা’র অপরাধে দায়ী করেছেন।
  • তৃণমূল ও কংগ্রেসের দাবি, ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে আসন সংখ্যা বাড়ানোই ছিল বিজেপির আসল উদ্দেশ্য।
  • ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে এখন পরিসংখ্যান ও সদিচ্ছার লড়াই তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *