১০ পরিবার আর এক শৌচাগার! শ্রমিক বস্তিতে সামনে এল চরম দুর্দশার চিত্র

১০ পরিবার আর এক শৌচাগার! শ্রমিক বস্তিতে সামনে এল চরম দুর্দশার চিত্র

নয়ডার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আন্দোলনের মাঝে হরৌলা গ্রামে পৌঁছেছিলেন প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের কন্যা শালিনী সিং। সেখানে মহিলা শ্রমিকদের ঘরে গিয়ে তাঁদের জীবনযাপনের বাস্তব চিত্র দেখে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। ১০টি ঘরের জন্য মাত্র একটি শৌচাগার—এমন মানবেতর পরিবেশেই দিন কাটছে হাজার হাজার শ্রমিকের। এই পরিস্থিতি কেবল স্বাস্থ্যের জন্যই হুমকিস্বরূপ নয়, বরং আধুনিক নগর সভ্যতার অন্ধকার দিকটিকেও স্পষ্ট করে তুলেছে।

আর্থিক শোষণ ও বঞ্চনার অভিযোগ

মহিলা শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের বেতন, পিএফ এবং ইএসআইসি সংক্রান্ত কোনো স্বচ্ছতা বজায় রাখে না ঠিকাদার সংস্থাগুলো। গত ৯-১০ বছরে মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হলেও তাঁদের বেতন বেড়েছে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা। অথচ সামান্য প্রয়োজনে ছুটি নিলে বা অসুস্থ হলে বেতন থেকে দ্বিগুণ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক ধর্মঘটের সময় নিরাপত্তার খাতিরে ঘরে থাকলেও তাঁদের দিনের মজুরি কেটে নেওয়া হয়েছে বলে শ্রমিকরা দাবি করেছেন।

মানবেতর জীবন ও ভবিষ্যতের সংকট

নিম্নমানের ক্যান্টিন পরিষেবা এবং দীর্ঘ পথ হেঁটে কারখানায় যাতায়াতের মতো শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা শ্রমিক পরিবারগুলোকে চরম সংকটে ফেলেছে। সিলিন্ডারের দাম ও সন্তানদের স্কুলের বেতন বাড়তে থাকলেও আয় না বাড়ায় পুষ্টিকর খাবার জোটানোই দায় হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শালিনী সিং প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এবং ঠিকাদারী প্রথার মাধ্যমে চলা এই শোষণের অবসান ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।

এক ঝলকে

  • নয়ডার হরৌলা গ্রামের শ্রমিক বস্তিতে ১০টি পরিবারের জন্য মাত্র একটি শৌচাগার ব্যবহারের করুণ চিত্র উঠে এসেছে।
  • গত এক দশকে বেতন বেড়েছে মাত্র ১০০০-১৫০০ টাকা, যা বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে অত্যন্ত নগণ্য।
  • বেতন থেকে পিএফ ও ইএসআইসি কাটলেও সেই বিষয়ে শ্রমিকদের সঠিক তথ্য বা স্লিপ দেওয়া হয় না।
  • অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনে ছুটি নিলে শ্রমিকদের বেতন থেকে দ্বিগুণ অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *