মহিলাদের অধিকার হরণ ও ভ্রূণহত্যার সমান অপরাধ করেছেন বিরোধীরা! দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন মোদী

নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ করাতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া আধ ঘণ্টার ভাষণে তিনি সরাসরি কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে-কে কাঠগড়ায় তোলেন। ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় বিলটি আটকে যায়, যাকে ‘মহিলাদের অধিকারের ভ্রূণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই ঘটনার জন্য দেশের ‘মা-বোন-কন্যাদের’ কাছে হাতজোড় করে ক্ষমাও চেয়ে নেন তিনি।
কৌশলী আক্রমণ ও রাজনৈতিক সমীকরণ
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নাম ধরে তৃণমূল ও ডিএমকে-কে নিশানা করেছেন, যা বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি অভিযোগ করেন, মহিলাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টি নষ্ট করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন সামনে থাকায় এই দুই রাজ্যের শাসকদলকে ‘নারীবিরোধী’ প্রমাণ করে মোদী নারী ভোটারদের কাছে একটি বিশেষ বার্তা দিতে চেয়েছেন। উল্লেখ্য, ভাষণে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেও কেরলে নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় বাম দলগুলির নাম সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিলের ভবিষ্যৎ ও বিরোধীদের যুক্তি
নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের অধীনে লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্র। তবে ৫২৮ জন সাংসদের উপস্থিতিতে বিলের পক্ষে ২৯৮ এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ায় সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬৬ শতাংশ সমর্থন অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ১০০ শতাংশ মহিলার সমর্থন তাঁদের পাশে আছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ ছিল যে জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসকে সংরক্ষণের সাথে জুড়ে দিয়ে কেন্দ্র আসলে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব খর্ব করে উত্তর ভারতে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে চাইছে।
উত্তপ্ত রাজপথ ও পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ
সংসদের বিতর্কের রেশ এদিন আছড়ে পড়ে দিল্লির রাজপথেও। রাহুল গান্ধীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির মহিলা সাংসদরা। হেমা মালিনী ও বাঁশুরি স্বরাজের মতো নেত্রীরা এই প্রতিবাদে শামিল হয়ে রাহুল গান্ধীর কুশপুতুল দাহ করেন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, নারীরা এই অপমান ভুলবেন না এবং বিরোধীদের এই আচরণের যন্ত্রণা দীর্ঘস্থায়ী হবে। তবে বিরোধীরা অনড় থেকে দাবি করেছেন যে, নির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ ছাড়াই আসন বাড়ানোর প্রস্তাব এনে সরকার মূলত রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে চেয়েছিল।
এক ঝলকে
- লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় খারিজ হয়ে গেল ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল।
- বিরোধীদের ‘নারীবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
- তৃণমূল, কংগ্রেস ও ডিএমকে-র বিরুদ্ধে মহিলাদের অধিকারের ‘ভ্রূণহত্যা’ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
- আসন পুনর্বিন্যাস ও লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্কের জেরেই মূলত ঐক্যবদ্ধ বিরোধ ঘটে।