মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে একজোট বিরোধীরা, শুরু হচ্ছে ইমপিচমেন্ট নোটিসের প্রস্তুতি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে একজোট বিরোধীরা, শুরু হচ্ছে ইমপিচমেন্ট নোটিসের প্রস্তুতি

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরাতে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। দীর্ঘদিনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন নোটিস জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। সূত্রের খবর, শনিবার বিরোধী শিবিরের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে খসড়া তৈরির জন্য পাঁচটি বিরোধী দলের পাঁচজন সাংসদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদের কৌশল ও সমন্বয়

সম্প্রতি মহিলা সংরক্ষণ বিল পাসে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতার পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে সাম্প্রতিক ফোনালাপে এই বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর নিয়ে অভিশংসন প্রস্তাব জমা দেওয়া হলেও স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তা খারিজ করে দিয়েছিলেন। এবার সংখ্যাতাত্ত্বিক শক্তি ও রাজনৈতিক সংহতিকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সাংবিধানিক জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাব

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ হওয়ায় তাঁকে অপসারণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত প্রস্তাব প্রয়োজন হয়। বিরোধীরা মনে করছেন, সংসদে সাম্প্রতিক ভোটাভুটিতে সরকারের পরাজয় তাদের জোটকে বাড়তি অক্সিজেন দিয়েছে। এই সংহতিকে হাতিয়ার করেই তারা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে জোরালোভাবে সামনে আনতে চাইছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের এই পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি এই প্রস্তাব সংসদে গৃহীত হয়, তবে তা কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে, কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার প্রশ্নে এই আইনি লড়াই আগামী দিনগুলোতে জাতীয় রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক ঝলকে

  • মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পুনরায় ইমপিচমেন্ট নোটিস আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা।
  • পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
  • এর আগে ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর থাকলেও টেকনিক্যাল কারণে প্রস্তাবটি খারিজ হয়েছিল।
  • নোটিসের খসড়া তৈরির কাজ করছেন ৫টি বিরোধী দলের ৫ জন সাংসদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *