একই ডাক্তারের শুক্রাণুতে জন্ম ১৬ শিশুর, প্রজনন কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় দুনিয়া!

একই ডাক্তারের শুক্রাণুতে জন্ম ১৬ শিশুর, প্রজনন কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় দুনিয়া!

নেদারল্যান্ডসের রাইনস্টেট হাসপাতালে চিকিৎসার নামে এক ভয়াবহ নৈতিক লঙ্ঘনের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে কর্মরত প্রাক্তন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আলেকজান্ডার শ্মাউটজিগার নিঃসন্তান দম্পতিদের অজান্তেই নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করে অন্তত ১৬টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি হাসপাতালের একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পর ইউরোপ জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতারণার কৌশল ও স্বীকারোক্তি

কৃত্রিম প্রজনন বা আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্য নিতে আসা দম্পতিদের জানানো হয়েছিল যে, তাঁদের চিকিৎসায় অজ্ঞাত কোনো দাতার শুক্রাণু ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু গত ১০ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ডাক্তার স্বীকার করেছেন যে ‘তাজা শুক্রাণু’ পাওয়া না গেলে তিনি নিজের শুক্রাণুই ব্যবহার করতেন। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১৬ জন ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের সকলেরই জৈবিক পিতা এই চিকিৎসক। বর্তমানে ওই সন্তানদের বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।

আইনি জটিলতা ও নৈতিক অবক্ষয়

এই ঘটনা জানাজানি হতেই ভুক্তভোগী মায়েরা এবং তাঁদের সন্তানরা তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ডাক্তারের নাম প্রকাশ্যে আসতেই অনেক নারী বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতারণা, সম্মতি ছাড়াই চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপ এবং পেশাগত নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসে এটিই প্রথম ঘটনা নয়; এর আগে ইয়ান কারবাত এবং ইয়ান ভিল্ডশুটের মতো চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও একই ধরণের কয়েক ডজন শিশুর জন্ম দেওয়ার প্রমাণ মিলেছিল।

ঘটনার প্রভাবে নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পুরনো আমলের অনিয়ন্ত্রিত প্রজনন কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। রাইনস্টেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি ও মানসিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চিকিৎসকের এই অনৈতিক কাজ কেবল বিশ্বাসভঙ্গ নয়, বরং শত শত মানুষের বংশপরিচয় এবং পারিবারিক কাঠামোকে সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • নেদারল্যান্ডসের রাইনস্টেট হাসপাতালের চিকিৎসক আলেকজান্ডার শ্মাউটজিগার দম্পতিদের অজান্তেই নিজের শুক্রাণু দিয়ে ১৬টি শিশুর জন্ম দিয়েছেন।
  • ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে কৃত্রিম প্রজননের আড়ালে এই অনৈতিক কাজ করা হয়েছিল।
  • ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা হয়েছে।
  • বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং সন্তানদের সহায়তার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *