“৫৯ বার কংগ্রেসের নাম, মহিলাদের কথা কই?” মোদীকে তীব্র আক্রমণ খাড়গের

নারী সংরক্ষণ বিল লোকসভায় পাশ হতে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণকে কেন্দ্র করে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং জয়রাম রমেশসহ শীর্ষ বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন, সাংবিধানিক একটি ব্যর্থতাকে ধামাচাপা দিতে প্রধানমন্ত্রী সরকারি মঞ্চকে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির ময়দানে পরিণত করেছেন। খাড়গের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর পুরো বক্তব্যে ‘নারী’ অপেক্ষা ‘কংগ্রেস’ শব্দটি বেশি উচ্চারিত হয়েছে, যা সরকারের প্রকৃত অগ্রাধিকারকে স্পষ্ট করে দেয়।
রাজনৈতিক সংঘাত ও অগ্রাধিকারের প্রশ্ন
মল্লিকার্জুন খাড়গে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ৫৯ বার কংগ্রেসের নাম নিয়েছেন, কিন্তু নারীদের কথা বলেছেন যৎসামান্যই। বিরোধী শিবিরের মতে, এটি কোনো জাতীয় ভাষণ ছিল না, বরং ছিল বিরোধীদের আক্রমণ করার একটি রাজনৈতিক কৌশল। বিশেষ করে লোকসভায় বিলটি প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার দায় বিরোধীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, ১২ বছরের শাসনামলে উল্লেখযোগ্য কিছু দেখাতে না পেরে প্রধানমন্ত্রী এখন মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সীমাবদ্ধতা
অন্যদিকে জয়রাম রমেশ এবং মণীশ তিওয়ারি এই বিলের সাথে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা দাবি করেছেন, নারীদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য কোনো বাড়তি আইনি বা পদ্ধতিগত জটিলতার প্রয়োজন নেই; সরকার চাইলে বর্তমান কাঠামোতেই এটি কার্যকর করতে পারত। বিরোধীদের দাবি, সরকার এই বিলটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং ডিলিমিটেশনের শর্ত জুড়ে দিয়ে বিষয়টিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
এই রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন আর কেবল বিলের সীমাবদ্ধতায় আটকে নেই, বরং এটি সরকারি প্রচারমাধ্যমের নিরপেক্ষতা এবং নারী অধিকারের নামে রাজনৈতিক কৌশলের এক বৃহত্তর বিতর্কে রূপ নিয়েছে। খাড়গে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সংসদের ভেতরে বিরোধীদের আক্রমণ করে যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তা দেশের কোটি কোটি নারীর আত্মসম্মানে আঘাত হেনেছে, যার প্রতিফলন আগামী নির্বাচনে দেখা যেতে পারে।
এক ঝলকে
- নারী সংরক্ষণ বিল ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ‘রাজনৈতিক’ ও ‘একপাক্ষিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেস।
- মল্লিকার্জুন খাড়গের অভিযোগ, ভাষণে নারীর চেয়ে কংগ্রেসকে নিয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
- জয়রাম রমেশের দাবি, ডিলিমিটেশনের অপেক্ষা না করেই অবিলম্বে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব।
- বিরোধী দলগুলোর মতে, সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি করেছেন।