নাবালিকা মেয়ের অভিযোগে হাজতে ঠাঁই বাবার, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই থানার ভেতরে ভয়াবহ কাণ্ড

নাবালিকা মেয়ের অভিযোগে হাজতে ঠাঁই বাবার, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই থানার ভেতরে ভয়াবহ কাণ্ড

মধ্যপ্রদেশের রতলামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন আত্মহত্যা করলেন ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি। নামলি থানায় বুধবার গভীর রাতে নিজের পোশাকের দড়ি ব্যবহার করে শৌচাগারের পাইপের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন ৩৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি। ঘটনার খবর জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেছেন।

রহস্যজনক আত্মহনন ও পুলিশের তৎপরতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করার পর বুধবার রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে রাত ৩টে পর্যন্ত হাজতের ভেতর তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। তবে ভোর ৪টে নাগাদ দায়িত্বরত কর্মীরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিশি প্রহরার ত্রুটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরিবারের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি দাবি মৃতের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয় বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদের চরম পরিণতি। মৃতের মা ও বোনের দাবি, শশুরবাড়ির লোকজন তাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন করছিল এবং প্রভাব খাটিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করানো হয়েছে। ইতিপূর্বে ওই ব্যক্তি নিজেই শশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মৃতের স্ত্রী, কন্যা এবং শ্যালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় তলব করেছে। একজন বিচারাধীন অভিযুক্তের হাজতের ভেতরে এমন মৃত্যু পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এক ঝলকে

  • মধ্যপ্রদেশের রতলামে নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত ব্যক্তির হাজতে আত্মহত্যা।
  • শৌচাগারের পাইপ ও নিজের পোশাকের দড়ি ব্যবহার করে গভীর রাতে চরম পথ বেছে নেন অভিযুক্ত।
  • মৃতের পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়ির যড়যন্ত্রে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল তাকে।
  • ঘটনায় গাফিলতি খতিয়ে দেখতে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *