মদের বোতলের QR কোড কীভাবে ফাঁস করল খুনের রহস্য? ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করল পুলিশ

মদের বোতলের QR কোড কীভাবে ফাঁস করল খুনের রহস্য? ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করল পুলিশ

উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ। গত ১ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ লোকেন্দ্র নামের এক ব্যক্তির আধপোড়া দেহ উদ্ধার হয় রাস্তার ধার থেকে। দেহের অবস্থা এমন ছিল যে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা আসাম্ভব হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা একটি খালি মদের বোতলই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বোতলে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে পুলিশ জানতে পারে কোন দোকান থেকে সেটি কেনা হয়েছিল।

সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল সূত্র

মদের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করতেই দেখা যায়, নিঁখোজ লোকেন্দ্র আরও দুই ব্যক্তির সঙ্গে মদ কিনছেন। সেই সূত্র ধরে মহেশ ও ধর্মবীর নামে দুজনকে শনাক্ত করে পুলিশ। তাদের জেরা করতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, নিহতের স্ত্রীর সাথে মহেশের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। লোকেন্দ্র বিষয়টি জেনে যাওয়ায় এবং পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে তা ফাঁস করে দেওয়ায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে তাঁর স্ত্রী ও প্রেমিক।

হত্যার নৃশংস পরিকল্পনা

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহেশ ও ধর্মবীর মদ খাওয়ার অছিলায় লোকেন্দ্রকে একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে প্রচুর মদ খাইয়ে বেহুঁশ করে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। পরিচয় আড়াল করতে খুনিরা লোকেন্দ্রর মুখে ও দেহে আগুন লাগিয়ে দেয়। তবে লোকেন্দ্রর হাতে থাকা একটি উলকি বা ট্যাটু দেখে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শনাক্ত করেন। ডিজিটাল তথ্য ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের স্ত্রী, প্রেমিক এবং সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে।

এক ঝলকে

ঘটনাস্থলে পাওয়া মদের বোতলের কিউআর কোড স্ক্যান করে ঘাতকদের নাগাল পায় পুলিশ।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে লোকেন্দ্রর স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক মিলে এই হত্যার ছক কষেছিল।

সিসিটিভি ফুটেজ ও লাশের হাতের ট্যাটু অপরাধীদের শনাক্ত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে তিন অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *