ট্রেনে মোবাইল চুরির পর ব্যাঙ্ক থেকে উধাও হাজার হাজার টাকা, রহস্যভেদে বড় সাফল্য পুলিশের

চলন্ত ট্রেনে মোবাইল চুরির পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল পূর্ব বর্ধমানে। অবশেষে সেই রহস্যের জাল ছিঁড়ে খোয়া যাওয়া প্রায় ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করল মঙ্গলকোট থানার পুলিশ। জেলা পুলিশের সাইবার উইংয়ের সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের তৎপরতায় একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে, অন্যদিকে সাইবার অপরাধীদের কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির জয়জয়কার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উড়িষ্যাগামী ট্রেনে যাতায়াতের সময় পরিযায়ী শ্রমিক সন্দীপ ভারুইয়ের মোবাইলটি চুরি হয়। চুরির পরেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে মোট ৩৯ হাজার ৯৯৮ টাকা সরিয়ে ফেলে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, চুরি যাওয়া অর্থ তিনটি ভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। দ্রুত সেই অ্যাকাউন্টগুলি চিহ্নিত করে টাকা ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পরিবারের হাতে ফিরল টাকা
মঙ্গলবার মঙ্গলকোট থানায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অভিযোগকারীর পরিবারের হাতে উদ্ধার হওয়া টাকা তুলে দেন জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। হারানো টাকা ফিরে পেয়ে পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ওই পরিবার। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনে ব্যক্তিগত ও ব্যাঙ্কিং তথ্য সংরক্ষিত থাকায় চুরির পর আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ছে। এক্ষেত্রে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বড়সড় জালিয়াতি রুখতে সক্ষম হয়েছে।
এক ঝলকে
- ওড়িশা যাওয়ার পথে চলন্ত ট্রেন থেকে মোবাইল চুরির পর ৩৯,৯৯৮ টাকা হাতিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা।
- পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের সাইবার উইং ও মঙ্গলকোট থানার যৌথ প্রচেষ্টায় টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
- তিনটি পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো টাকা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা।
- মঙ্গলকোট থানায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হারানো অর্থ অভিযোগকারীর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।