কেউ কেটেছিল গোপনাঙ্গ, কেউ বা কান! ৪০০ জন নারী মিলে ধর্ষককে ছিন্নভিন্ন, বিচার পেল শত শত লাঞ্ছিত নারী

কেউ কেটেছিল গোপনাঙ্গ, কেউ বা কান! ৪০০ জন নারী মিলে ধর্ষককে ছিন্নভিন্ন, বিচার পেল শত শত লাঞ্ছিত নারী

মহারাষ্ট্রের নাগপুরের কস্তুরবা নগরের কুখ্যাত অপরাধী ভরত কালীচরণ ওরফে আক্কু যাদবের নৃশংস পরিণতির কথা আজও ভারতের অপরাধ জগতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হয়ে আছে। ২০০৪ সালে নাগপুর জেলা আদালতের বিচারকক্ষে প্রায় ৪০০ নারী একত্রিত হয়ে এই সিরিয়াল রেপিস্টের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা অবর্ণনীয় যৌন নির্যাতন, শারীরিক নিগ্রহ এবং খুনের প্রতিশোধ নিতে সেদিন ক্ষুব্ধ নারীরা নিজেরাই আইন তুলে নিয়েছিলেন নিজেদের হাতে।

ত্রাসের রাজত্ব ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা
আক্কু যাদব ১৯৯১ সাল থেকে নাগপুরের বস্তি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তার বিরুদ্ধে শতাধিক নারীকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। এমনকি সদ্য মা হওয়া নারী থেকে শুরু করে প্রবীণরাও তার হাত থেকে রেহাই পাননি। অভিযোগ রয়েছে, আক্কু স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নিয়মিত ঘুষ দিয়ে হাত করে রাখত, যার ফলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতো না। দীর্ঘ সময় ধরে বিচার না পাওয়া এবং পুলিশের উদাসীনতা সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।

আদালত কক্ষেই গণবিচারের চূড়ান্ত রূপ
১৩ আগস্ট ২০০৪ তারিখে যখন আক্কু যাদবকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আদালতে পেশ করা হয়, তখন পরিকল্পিতভাবেই সেখানে হাজির হন কয়েকশ নারী। শুনানি চলাকালীন হঠাতই তারা আক্কুর ওপর লঙ্কাগুঁড়ো ছিটিয়ে দেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। ভিড়ের মধ্যে তাকে কুপিয়ে খুনের পাশাপাশি তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। আদালত কক্ষের মেঝে রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ওই অপরাধীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় অপরাধীর প্রতি জনরোষের এক চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

এক ঝলকে

  • সিরিয়াল রেপিস্ট আক্কু যাদব প্রায় ৪০০ নারীর ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছিল বলে অভিযোগ।
  • ২০০৪ সালে নাগপুর আদালত কক্ষের ভেতরেই প্রায় ৪০০ নারী মিলে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন।
  • দীর্ঘকাল ধরে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণেই এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা।
  • এই ঘটনাটি ভারতে নারী নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *