মায়ের সম্মতিতে মুসলিম প্রেমিকের জন্য পরলেন বোরকা, বললেন কলেমাও পড়ে নেব! তবে কেন বিষপান তরুণীর

উত্তরপ্রদেশের বিজনোর জেলার নূরপুর থানা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক প্রেম কাহিনী প্রকাশ্যে এসেছে। তাজপুর কসবার এক হিন্দু তরুণী তাঁর মুসলিম সহপাঠী প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে নিজের ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠা বোধ করেননি। এমনকি প্রেমিকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশে তিনি নিয়মিত বোরকা পরিধান করতে শুরু করেছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে বিয়ের প্রতিশ্রুতি থেকে প্রেমিকের পিছিয়ে আসায় চরম হতাশায় ওই তরুণী আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন।
পারিবারিক বিচ্ছেদ ও সংগ্রামের কাহিনী
গত এক বছর ধরে চলা এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ার পর তরুণীর বাবা তীব্র প্রতিবাদ জানান। তবে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে মা এই সম্পর্কে সমর্থন জুগিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ, প্রায় ছয় মাস আগে বাবা তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে তাজপুর এলাকায় মা ও মেয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে থেকে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত শুক্রবার ওই তরুণী বোরকা পরে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে পরিস্থিতির নাটকীয় মোড় নেয়।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও চরম সিদ্ধান্ত
তরুণীটি প্রয়োজনে ধর্ম পরিবর্তন বা কলমা পড়ার প্রস্তাব দিলেও আইনের দোহাই দিয়ে বিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওই যুবক। একপর্যায়ে মোবাইল বন্ধ করে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলে তরুণী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। চরম অপমানে এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় প্রেমিকের তালাবদ্ধ দরজার সামনেই তিনি বিষপান করেন। বর্তমানে তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হায়ার সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের বর্তমান সামাজিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং তার করুণ পরিণতির এক জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- বিজনোরে মুসলিম প্রেমিকের জন্য হিন্দু তরুণীর বোরকা ধারণ ও ধর্ম পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ।
- বাবার আপত্তিতে মা ও মেয়ে ছয় মাস ধরে বাড়িছাড়া হয়ে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
- বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গেলে যুবক পালিয়ে যাওয়ায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা তরুণীর।
- তরুণীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং পুলিশ লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।