ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় লাল সংকেত হতে পারেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির!

ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় লাল সংকেত হতে পারেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির!

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক তেহরান সফর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃত্বের সঙ্গে আসিম মুনিরের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক নবনির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র সঙ্গে তার সমীকরণকে আমেরিকার জন্য একটি ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

ইরান-পাক গোপন সমীকরণ

২০১৬ ও ২০১৭ সালে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা মিলিশিয়া ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর জেনারেল থাকাকালীন আসিম মুনির ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করেন। সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, কুদস ফোর্সের প্রাক্তন কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি এবং বর্তমান কমান্ডার হোসেন সালামির মতো শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মুনিরের ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। এই গভীর সম্পর্ক ওয়াশিংটনের কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমেরিকার সতর্কতা ও প্রভাব

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস-এর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আফগানিস্তান সংকটের সময় পাকিস্তান যেভাবে আমেরিকার মিত্র হওয়ার অভিনয় করে তালেবানকে সমর্থন দিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। পাকিস্তানের এই দ্বিমুখী নীতি এবং ইরানের ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব বজায় রাখার ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে। অন্যদিকে, এই ঘটনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেসামরিক প্রশাসনের ওপর সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকেই ফের স্পষ্ট করে তুলছে।

এক ঝলকে

  • ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃত্বের সঙ্গে জেনারেল আসিম মুনিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
  • প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে ইরানের আইআরজিসি এবং শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মুনিরের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সমীকরণ রয়েছে।
  • মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থানকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
  • আসিম মুনিরের তিন দিনের তেহরান সফর দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *