৩০ পেরোলেই সাবধান! দৃষ্টিশক্তি অটুট রাখতে চোখের এই ৫টি পরীক্ষা করা এখন বাধ্যতামূলক

বর্তমানে ডিজিটাল জীবনযাত্রা এবং দীর্ঘক্ষণ পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাসে অল্প বয়সেই চোখের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, ৩০ বছর বয়সের পর চোখের অনেক সমস্যা নীরবে দানা বাঁধে যার লক্ষণ শুরুতে ধরা পড়ে না। গ্লুকোমা বা রেটিনাল ডিজেনারেশনের মতো ব্যাধিগুলো অলক্ষ্যেই দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
নীরব ঘাতক ও আধুনিক জীবনযাত্রার ঝুঁকি
চোখের অভ্যন্তরীণ উচ্চ রক্তচাপ বা গ্লুকোমাকে দৃষ্টিশক্তির নীরব ঘাতক বলা হয়। ৩০ বছরের পর এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা সঠিক সময়ে শনাক্ত না করলে স্থায়ী অন্ধত্ব ডেকে আনতে পারে। এছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকা এবং স্মার্টফোনের অত্যধিক ব্যবহারের ফলে ‘ড্রাই আই’ বা চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। এর সঠিক চিকিৎসা না হলে দীর্ঘমেয়াদে কর্নিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞরা দৃষ্টিশক্তির স্পষ্টতা যাচাইয়ের জন্য রিফ্রাকশন টেস্ট এবং রেটিনার সুস্থতা নিশ্চিত করতে রেটিনাল এক্সামিনেশনের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের জন্য ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি রুখতে এই পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া বয়স বাড়ার সাথে সাথে রঙের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা যাচাই করতে কালার কন্টাস্টিং টেস্ট করাও বুদ্ধিমানের কাজ। বছরে অন্তত একবার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে অকাল অন্ধত্বের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
এক ঝলকে
- গ্লুকোমা বা চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ পরীক্ষা করা জরুরি কারণ এর কোনো প্রাথমিক লক্ষণ থাকে না।
- ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহারজনিত ক্ষতি ও ড্রাই আই শনাক্ত করতে নিয়মিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
- ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ থাকলে রেটিনার রক্তনালী সুরক্ষিত রাখতে রেটিনাল এক্সামিনেশন করানো মাস্ট।
- ৩০ বছর বয়সের পর অন্তত বছরে একবার পূর্ণাঙ্গ চক্ষু পরীক্ষা দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে।