নিজের গর্ভধারিণী মা যখন শত্রু! ছাত্রী শিক্ষিকাকে বলল এমন কথা, কুকীর্তির কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন ম্যাডাম

মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার এলাকায় দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীর অসহায়ত্বের কাহিনি প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে গোটা শিক্ষা মহল। নিজের শিক্ষিকার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই কিশোরী জানায়, গত এপ্রিল মাস থেকে তার মা এবং পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশী মিলে তাকে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করছে। দিনের পর দিন চলা এই পাশবিক অত্যাচারের কথা শুনে ওই শিক্ষিকা তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
টাকার লোভে চরম নৃশংসতা
ভুক্তভোগী কিশোরীর বয়ান অনুযায়ী, শুধুমাত্র অর্থের লালসায় তার মা এবং প্রতিবেশী তাকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পাঠাত। কিশোরীটি বারবার প্রতিবাদ করলে এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হতো। একপর্যায়ে অসহায় বোধ করে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে তার এক বান্ধবীর কাছে তিন দিন লুকিয়ে ছিল। তবে পরিস্থিতির চাপে যখন সে পুনরায় বাড়িতে ফিরে আসে, তখন তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
পুলিশি পদক্ষেপ ও পকসো আইনে মামলা
স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘাটকোপার থানার পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগী যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই অভিযুক্ত মা এবং ওই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কঠোর ‘পকসো’ (POCSO) আইনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং কিশোরীর নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত পারিবারিক নৈতিক অবক্ষয় এবং চরম দারিদ্র্য বা লালসা থেকেই এই ধরনের অপরাধের জন্ম হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- মুম্বাইয়ের ঘাটকোপারে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে তার মা ও প্রতিবেশী মিলে দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
- টাকার বিনিময়ে গত এপ্রিল মাস থেকে ওই কিশোরীর ওপর এই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল।
- বাড়ি থেকে পালিয়েও রেহাই না পেয়ে কিশোরীটি স্কুলের শিক্ষিকার কাছে সব কথা খুলে বলে।
- পুলিশ অভিযুক্ত মা ও প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে।