বিস্ময়কর সাফল্য! এক একর জমিতে তরমুজ চাষ করে বছরে ৬.৫ লক্ষ টাকা আয় করছেন এই কৃষক

হরিয়ানার জলপথ জেলার সিওয়া গ্রামের ৬৩ বছর বয়সী কৃষক রাম প্রতাপ শর্মা আধুনিক কৃষিপদ্ধতি ব্যবহার করে সাফল্যের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। ‘কৃষি রত্ন’ পুরস্কারপ্রাপ্ত এই কৃষক প্রথাগত চাষাবাদ ছেড়ে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে পাঁচ ধরনের রঙিন তরমুজ চাষ করছেন। থাইল্যান্ড এবং তাইওয়ান থেকে সংগৃহীত উন্নত মানের বীজ ব্যবহার করে উৎপাদিত এই ফলগুলো এখন দিল্লি, গুরুগ্রাম ও চণ্ডীগড়ের মতো বড় শহরগুলোর বাজারে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে।
সাফল্যের নেপথ্যে বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তি
রাম প্রতাপ তাঁর জমিতে লাল, কমলা, গাঢ় হলুদ, হালকা হলুদ এবং নীল—এই পাঁচ রঙের তরমুজ চাষ করছেন। গুণমান নিশ্চিত করতে তিনি প্রতি কেজি প্রায় ১ লক্ষ টাকা মূল্যের বিদেশি বীজ ব্যবহার করেন, যেখানে একর প্রতি মাত্র ৩০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। ফলন বৃদ্ধিতে তিনি ড্রিপ ইরিগেশন (বিন্দু সেচ), মালচিং এবং পলিহাউসের মতো আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এর ফলে উৎপাদন খরচ কমছে এবং ফলের গুণমান বজায় থাকছে।
উচ্চ আয় ও বিপণন কৌশল
আর্থিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, একর প্রতি প্রায় ১০০ কুইন্টাল তরমুজ উৎপাদন করে তিনি ৫ লক্ষ টাকা আয় করছেন, যা থেকে খরচ বাদ দিলে নিকর মুনাফা থাকে ৪ লক্ষ টাকা। এর পাশাপাশি একই জমিতে করলা, ঝিঙে ও পালং শাকের মতো সাথী ফসল চাষ করে বছরে অতিরিক্ত ২.৫ লক্ষ টাকা আয় করছেন তিনি। জাতীয় সড়কের কাছে জমি হওয়ায় এবং অনলাইনে সরাসরি বিপণন ব্যবস্থার কারণে বড় ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তারা সরাসরি তাঁর খামার থেকেই পণ্য সংগ্রহ করছেন।
এক ঝলকে
- হরিয়ানার কৃষক রাম প্রতাপ শর্মা পাঁচ রঙের বিদেশি তরমুজ চাষ করে বছরে একর প্রতি ৬.৫ লক্ষ টাকা নিট মুনাফা করছেন।
- থাইল্যান্ড ও তাইওয়ান থেকে আনা উচ্চমূল্যের বীজ এবং ড্রিপ ইরিগেশনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মিলেছে এই অভাবনীয় সাফল্য।
- তরমুজের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে সবজি চাষ করে তিনি আয়ের নতুন উৎস তৈরি করেছেন।
- দিল্লি-চণ্ডীগড় জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থান এবং সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা তাঁর ব্যবসার দ্রুত প্রসারে সহায়ক হয়েছে।