হাইওয়েতে যত্রতত্র পার্কিং নিষিদ্ধ: পথ সুরক্ষা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ

জাতীয় মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে নির্ধারিত এলাকা (Designated bays) ব্যতীত অন্য কোথাও ভারী বা বাণিজ্যিক যানবাহন পার্কিং করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে. কে. মহেশ্বরী এবং বিচারপতি অতুল এস. চন্দুরকরের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক নির্দেশ জারি করেছে। আদালতের মতে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার’-এর মধ্যে ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
নিরাপদ যাতায়াত ও সাংবিধানিক অধিকার
রাজস্থান ও তেলেঙ্গানায় ঘটে যাওয়া বেশ কিছু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই মামলাটি গ্রহণ করে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মহাসড়কের মূল রাস্তায় বা ফুটপাতে অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও লারিগুলো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জননিরাপত্তা রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে অর্জিত বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছে।
প্রযুক্তিগত নজরদারি ও কঠোর বাস্তবায়ন
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, অ্যাডভান্সড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ATMS)-এর মাধ্যমে মহাসড়কের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে হবে। কোনো যানবাহন অবৈধভাবে পার্কিং করা হলে জিপিএস ভিত্তিক ছবি তুলে তাৎক্ষণিক ই-চালান ইস্যু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI) এবং পুলিশ প্রশাসনকে এই নিয়ম কার্যকরে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনি প্রভাব
এই আদেশ বাস্তবায়নে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টরদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় পেট্রোলিং এবং নিয়মিত পরিদর্শনের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি করতে হবে। মূলত যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে রাস্তায় গাড়ি বিকল হলে তা দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা না করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে এই রায়, যা ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- জাতীয় মহাসড়কের মূল রাস্তায় বা ধারে ভারী যানবাহন পার্কিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- নির্ধারিত ‘লে-বাই’ বা নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি রাখা যাবে না।
- ডিজিটাল নজরদারি ও জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের জরিমানা করা হবে।
- যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আদালত।