“মহিলা বিলের আড়ালে সীমানা পুনর্নির্ধারণের চক্রান্ত!” মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ মমতার

নারী সংরক্ষণ বিলকে হাতিয়ার করে কেন্দ্র সরকার রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসলে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ‘ডিলিমিটেশন’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে বিজেপি সরকার। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই কেন্দ্র এই বিলের সঙ্গে সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক স্বার্থ ও তৃণমূলের অবস্থান
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দল—যেখানে সংসদ ও বিধানসভায় মহিলা প্রতিনিধিদের হার সবচেয়ে বেশি—তারা কেন এই বিলের বিরোধিতা করবে? তাঁর মতে, বিরোধিতার মূল কারণ হলো বিলের সাথে ডিলিমিটেশনকে জুড়ে দেওয়া। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, এটি কেবল মহিলাদের ক্ষমতায়ন নয়, বরং কেন্দ্রের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির একটি কৌশল মাত্র। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ফলেই কেন্দ্রের এই ‘কুচক্র’ সফল হতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সংসদীয় লড়াই
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ঘটনার মাধ্যমেই সংসদে বিজেপি সরকারের পতনের সূচনা হয়েছে, যার প্রভাব অচিরেই বাংলায় দেখা যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিলিমিটেশনের সঙ্গে নারী সংরক্ষণকে যুক্ত করায় বিলটি কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে, যা মহিলাদের প্রকৃত ক্ষমতায়নকে দীর্ঘসূত্রিতার মুখে ঠেলে দেবে। এই পদক্ষেপের ফলে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
- নারী সংরক্ষণ বিলের মাধ্যমে কেন্দ্র সীমানা পুনর্নির্ধারণের (ডিলিমিটেশন) গোপন উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ।
- রাজনৈতিক স্বার্থে মহিলাদের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সমালোচনা করেছেন।
- তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তাঁর দলেই নারী প্রতিনিধিদের সংখ্যা সর্বাধিক, তাই তিনি নারী সংরক্ষণের নয় বরং কেন্দ্রের ‘শর্তসাপেক্ষ’ বিলের বিরোধী।
- এই ঘটনায় সংসদে বিজেপির পতনের শুরু হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।