বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী

প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হতে চলেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী। বর্তমান হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাকে ব্রাসেলস এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ভারতের দূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পরই এই বড় রদবদল ঘটাল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। সাধারণত পেশাদার কূটনীতিক বা আইএফএস আধিকারিকদের এই পদে দেখা গেলেও, ঢাকার নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবার একজন ঝানু রাজনীতিকের ওপরই আস্থা রাখল মোদী সরকার।

কূটনীতিতে অভিজ্ঞ রাজনীতিকের গুরুত্ব

দীনেশ ত্রিবেদী একাধারে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান এবং ঝরঝরে বাংলা বলতে পারার দক্ষতা তাঁকে এই পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে। বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সঙ্গে কার্যকরী বোঝাপড়া এবং জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই হবে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

কৌশলী পদক্ষেপ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং বর্তমান অভ্যন্তরীণ সমীকরণের কারণে প্রথাগত কূটনীতির চেয়ে রাজনৈতিক সংলাপের গুরুত্ব বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর মতো প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সংলাপ চালাতে একজন রাজনীতিবিদের ভূমিকা বেশি কার্যকর হতে পারে। বিজেপি নেতা অমিত মালভিয়া ইতিমধ্যেই এই নিযুক্তির জন্য দীনেশ ত্রিবেদীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এই নিযুক্তি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সেতুবন্ধনকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে।

এক ঝলকে

  • বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী।
  • বর্তমান হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাকে ব্রাসেলস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের দূত হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
  • ঢাকার নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ ও সম্পর্ক বজায় রাখতেই পেশাদার কূটনীতিকের বদলে একজন রাজনীতিককে বেছে নিল কেন্দ্র।
  • বাঙালি সংস্কৃতি ও ভাষা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দীনেশ ত্রিবেদীর প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *