ভারতের এক রহস্যময় গ্রাম যেখানে চলে না দেশের আইন!

ভারতের এক রহস্যময় গ্রাম যেখানে চলে না দেশের আইন!

হিমাচল প্রদেশের পার্বতী উপত্যকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ‘মलाना’ গ্রামটি বিশ্বের কাছে এক রহস্যের নাম। নিজেদের “বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্র” হিসেবে দাবি করা এই গ্রামের বাসিন্দারা কঠোরভাবে নিজস্ব প্রথা ও শাসনব্যবস্থা মেনে চলেন। মূলত গ্রিক সম্রাট আলেকজান্ডারের সৈন্যদের বংশধর হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়া এই জনপদের মানুষ আজও বাইরের জগত থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

বিচিত্র বিচার ব্যবস্থা ও অস্পৃশ্যতার নিয়ম

মলাসা গ্রামের সবচেয়ে অদ্ভুত নিয়ম হলো এখানকার বাসিন্দাদের স্পর্শ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। গ্রামবাসীরা নিজেদের উচ্চবংশীয় এবং বহিরাগতদের ‘অশুচি’ মনে করেন। কোনো পর্যটক যদি ভুলবশত কোনো গ্রামবাসীকে বা তাদের ঘর স্পর্শ করেন, তবে তাকে বড় অংকের আর্থিক জরিমানা গুনতে হয়। বর্তমানে এই জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। এমনকি দোকানের কেনাকাটার ক্ষেত্রেও লেনদেন সরাসরি হাতের বদলে মাটির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।

ভারতীয় আইন ও প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা

এই গ্রামে ভারতের প্রচলিত সংবিধান বা হিমাচল পুলিশের আইন কার্যকর হয় না। এখানকার শাসনভার পরিচালিত হয় নিজস্ব ১১ সদস্যের একটি সংসদের মাধ্যমে, যার নাম ‘উপরী হুকুম’ ও ‘নিচলি হুকুম’। কোনো বিরোধ বা অপরাধের বিচার করা হয় স্থানীয় ‘জমঘট্টা’ দেবতার দোহাই দিয়ে। অদ্ভুত এক বিচার পদ্ধতিতে ভেড়ার ওপর বিষ প্রয়োগ করে সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করা হয় এবং গ্রামবাসীরা সেই রায়কেই চূড়ান্ত বলে মেনে নেয়।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা হিসেবে এই গ্রামে বিদ্যুৎ ও জল পৌঁছালেও মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের ব্যবহার এখনো অকল্পনীয়। নারীরা নির্বাচনী ভোটে অংশ নিতে না পারলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এই বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন ও কট্টর ঐতিহ্যই মালানাকে ভারতের মানচিত্রে এক অনন্য ও রহস্যময় গ্রামে পরিণত করেছে।

এক ঝলকে

  • হিমাচলের মালানা গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের আলেকজান্ডারের বংশধর ও বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্রের দাবিদার মনে করেন।
  • বহিরাগত কেউ এখানকার বাসিন্দা বা তাদের ঘর স্পর্শ করলে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও গ্রাম থেকে বহিষ্কারের নিয়ম রয়েছে।
  • গ্রামটি ভারতীয় সংবিধানের পরিবর্তে নিজস্ব ‘জমঘট্টা’ দেবতার বিধান ও সংসদীয় প্রথার মাধ্যমে শাসিত হয়।
  • নিজস্ব ভাষা ‘কনাশি’ এবং বিচিত্র বিচার ব্যবস্থার কারণে এই গ্রাম পর্যটকদের কাছে রহস্যময়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *