পা নয়, ব্যাটের জোরেই মাত! আইপিএলের সেরা ৬ ‘পাওয়ার হিটার’

ক্রিজে পাথরের মতো স্থির থেকে এবং হাতের পেশিশক্তির ওপর ভর করে ছক্কা হাঁকানো আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নতুন শিল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আইপিএলে এখন ব্যাটাররা প্রথাগত ফুটওয়ার্ক বা পায়ের কাজ কমিয়ে বরং ব্যাটের দুলুনি বা ‘ব্যাট সুইং’-এর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অনেকটা গলফ খেলার ঢঙে দাঁড়িয়ে থেকে মাঠের চারপাশে বাউন্ডারি ছাড়া করার এই কৌশল বোলারদের জন্য রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পেশিশক্তি ও টাইমিংয়ের মেলবন্ধন
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অভিষেক শর্মা এবং হেনরিখ ক্লাসেন এই কৌশলে সবচেয়ে সফল। যুবরাজ সিংয়ের উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত অভিষেক শর্মা পিচে বেশি না নড়েও অবলীলায় কভারের ওপর দিয়ে লফটেড ড্রাইভ খেলছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকান তারকা ক্লাসেন তার শক্তিশালী ‘বেস’ এবং হাতের গতির কারণে স্পিনারদের জন্য এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন। তিনি ক্রিজে স্থির থেকে হিপ ড্রাইভ এবং হাত প্রসারিত করার মাধ্যমে লেন্থ বলকেও অনায়াসে গ্যালারিতে পাঠাচ্ছেন।
তরুণদের ব্যাটে নতুন ঘরানার ক্রিকেট
রাজস্থান রয়্যালসের ইয়াশস্বী জয়সওয়াল এবং তরুণ প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী তাদের ব্যাকলিফট এবং দ্রুত ডাউনসুইং ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করছেন। জয়সওয়াল লেন্থ আগেভাগে বুঝতে পেরে উচ্চ ব্যাকলিফটের মাধ্যমে মিড-উইকেটে যে পুল শটগুলো খেলছেন, তাতে পায়ের কাজের চেয়ে ব্যাটের প্রবাহই মুখ্য। একই পথে হাঁটছেন পাঞ্জাব কিংসের প্রিয়াংশ আর্য এবং রাজস্থানের সঞ্জু স্যামসনও। সঞ্জু এখন আর উইকেটের সামনে খুব একটা না এগিয়ে বরং ক্রিজে স্থির থেকে নিখুঁত টাইমিং ও হাতের জোরের ওপর ভরসা রাখছেন।
অতিরিক্ত ফুটওয়ার্কের বদলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে সরাসরি ব্যাটের গতি বাড়ানো এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সফলতম মন্ত্র। এর ফলে ব্যাটাররা বলের লেন্থের সাথে তাল মিলিয়ে খুব কম সময়ে বড় শট খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। আধুনিক এই গলফ-স্টাইল ব্যাটিং বোলারদের নিখুঁত ইয়র্কার কিংবা বাউন্সার দেওয়ার চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করে তুলছে, যা ভবিষ্যতে টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং ব্যাকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
এক ঝলকে
- আইপিএলের সেরা ব্যাটাররা এখন পায়ের কাজের চেয়ে শক্তিশালী ‘ব্যাট সুইং’-এর ওপর বেশি নির্ভর করছেন।
- অভিষেক শর্মা, ক্লাসেন ও সঞ্জু স্যামসন এই কৌশলে স্পিনার ও পেসারদের বিপক্ষে সমানভাবে সফল।
- ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী এবং প্রিয়াংশ আর্যও এই নতুন ঘরানার ব্যাটিংয়ে নজর কাড়ছেন।
- এতে কম নড়াচড়া করেও গায়ের জোরে ও টাইমিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত রান তোলা সম্ভব হচ্ছে।