গাজিয়াবাদে রণক্ষেত্র: মহিলা ফুড ইন্সপেক্টরের ওপর হামলা, মেজাজ হারালেন বিজেপি বিধায়ক!

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের লোনি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ মাংসের দোকানে অভিযান চালাতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে একটি সরকারি দল। মুখ্যমন্ত্রী পোর্টালে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে মওলানা আজাদ কলোনিতে গো-হত্যার সন্ধানে তল্লাশি চালাতে গেলে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নারী ফুড ইন্সপেক্টর মীরা সিংয়ের নেতৃত্বে যাওয়া দলটিকে একদল দুষ্কৃতকারী ঘিরে ফেলে এবং তাদের ওপর চড়াও হয়।
তদন্তকারী দলের ওপর অতর্কিত হামলা
অভিযান চলাকালীন দোকানদাররা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কর্মকর্তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সবিনা এবং বিলাল নামের দুই ব্যক্তির উস্কানিতে একদল মানুষ সরকারি গাড়িটি ঘিরে ধরে এবং চালকের কাছ থেকে নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ফুড ইন্সপেক্টর মীরা সিং জানিয়েছেন, ওই মাংসের দোকানগুলোর কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার খাতিরে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়।
বিধায়কের কঠোর হুঁশিয়ারি ও প্রশাসনিক তৎপরতা
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জর ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি এই হামলাকে গো-হত্যা সিন্ডিকেটের কাজ বলে অভিহিত করেছেন। প্রশাসনের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যোগী আদিত্যনাথের সরকারে নারী কর্মকর্তা বা ‘মেয়েদের’ ওপর হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দায়ীদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যা তাদের সাত পুরুষ মনে রাখবে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। পলাতক অন্যান্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর এলাকায় সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- গাজিয়াবাদের লোনিতে অবৈধ মাংসের দোকানে অভিযান চালাতে গিয়ে আক্রান্ত ফুড ইন্সপেক্টর ও তার দল।
- গো-হত্যার অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে নারী কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা।
- স্থানীয় বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জরের কঠোর হুঁশিয়ারি ও অভিযুক্তদের দমনে কড়া নির্দেষ।
- ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন নারী গ্রেফতার এবং বাকিদের সন্ধানে পুলিশের তল্লাশি জারি।