প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ সম্বোধন মল্লিকার্জুন খাড়গের, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের একটি মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। চেন্নাইয়ের এক জনসভায় খাড়গে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্যের পরপরই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং কংগ্রেস সভাপতির নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি তোলে। গেরুয়া শিবিরের মতে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে এমন ভাষায় আক্রমণ করা দেশের অপমান।
বিতর্ক ও খাড়গের ব্যাখ্যা
চেন্নাইয়ে এডিএমকে-বিজেপি জোটকে আক্রমণ করতে গিয়ে খাড়গে অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল সাম্য বা বিচারে বিশ্বাসী নয়। তবে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হন কংগ্রেস সভাপতি। তিনি সাফাই দিয়ে জানান, আক্ষরিক অর্থে প্রধানমন্ত্রীকে তিনি সন্ত্রাসী বলেননি, বরং বোঝাতে চেয়েছেন যে মোদীজি বিরোধী দলগুলোকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে ‘ভয় দেখাচ্ছেন’ (Terrorising)। ইডি, সিবিআই এবং আয়কর দপ্তরকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির করার বিষয়টিকেই তিনি সন্ত্রাসবাদের সাথে তুলনা করেছেন বলে দাবি করেন।
নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব
তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে ভোটগ্রহণের ঠিক দু’দিন আগে এই বাগযুদ্ধ রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও উসকে দিয়েছে। বিজেপি এই ঘটনাকে কংগ্রেসের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা হিসেবে প্রচার করছে, অন্যদিকে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট একে স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের ব্যক্তিগত আক্রমণ শেষ মুহূর্তের ভোটারদের মনস্তত্ত্বে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, যা ভোটের ফলাফলেও প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ঝলকে
- চেন্নাইয়ের প্রচার সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে সম্বোধন করেন মল্লিকার্জুন খাড়গে।
- কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দিয়ে বিরোধীদের ভয় দেখানোর প্রসঙ্গেই এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে জানান তিনি।
- এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস সভাপতির ক্ষমার দাবি জানিয়েছে বিজেপি।
- তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে এই বিতর্ক রাজনৈতিক উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।