“ওদের ক্ষতি করবেন না, প্লিজ!”— আট নারীর প্রাণভিক্ষায় ইরানের কাছে হাতজোড় ট্রাম্পের

ইরানে মৃত্যুদণ্ডের মুখে থাকা আট নারীর জীবন বাঁচাতে তেহরানের কাছে মানবিক আবেদন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প সরাসরি ইরানের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই নারীদের মুক্তি দেওয়া হলে তা আগামীতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ সুগম করবে। ট্রাম্পের এই জনসমক্ষ আবেদন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে, যা দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে।
আলোচনার টেবিলে ফেরার সংকেত
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বার্তা এমন এক সময়ে এলো যখন পাকিস্তান সরকার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা রয়েছে। ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে একটি “শুভ সূচনা” হিসেবে দেখছেন। তবে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তারা আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
নিরাপত্তা উদ্বেগ ও পাল্টা হুঁশিয়ারি
কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ এখনো যথেষ্ট চড়া। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান শর্ত না মানলে তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও সেতুতে হামলা চালানো হবে। পাল্টা জবাবে ইরানও জানিয়েছে, তাদের নাগরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে আঘাত হানবে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামাবাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ২০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- আট নারীর মৃত্যুদণ্ড রুখতে এবং তাদের মুক্তি দিতে ইরানের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আবেদন।
- ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে এই মানবিক ইস্যুটিকে সম্পর্কের উন্নতির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা।
- মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না করলে ইরান আলোচনায় বসতে নারাজ এবং হামলার পাল্টা হামলার হুমকি বজায় রেখেছে।
- বৈঠকের সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে পাকিস্তানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।