মাঝরাতে কাঁপল সীমান্ত! কীভাবে ১০০ জঙ্গিকে খতম করল ভারতীয় সেনা? দেখুন ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর অন্দরকথা

গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগামের সেই রক্তঝরা দিনটি আজও ভারতবাসীর স্মৃতিতে অমলিন। পর্যটকদের ওপর হওয়া সেই ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন নিরীহ মানুষ, যাদের মধ্যে একজন নেপালি নাগরিকও ছিলেন। জঙ্গিদের হাত থেকে পর্যটকদের বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন স্থানীয় নির্ভীক অশ্বচালক সৈয়দ আদিল হোসেন শাহ। হামলার পরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উপত্যকা, আর ভারতীয় সেনাবাহিনী শপথ নেয় এই বর্বরোচিত রক্তপাতের প্রতিশোধ নেওয়ার। সেই শপথের বাস্তব প্রতিফলন ছিল ঐতিহাসিক ‘অপারেশন সিন্ধু’, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতের সামরিক সক্ষমতা ও সাহসিকতার এক অনন্য নজির গড়েছিল।
প্রতিশোধের প্রেক্ষাপট ও গোয়েন্দা তদন্ত
হামলার পর এনআইএ-এর তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জানা যায়, এই হামলার নেপথ্যে ছিল পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবা এবং সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। হামলাকারী জঙ্গি হাশিম মুসা ছিল পাকিস্তানের স্পেশাল ফোর্সের একজন সাবেক প্যারা-কমান্ডো, যাকে বিশেষ উদ্দেশ্যে লস্করে পাঠানো হয়েছিল। এরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো সময় ও স্থানে পালটা আঘাত করার পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেন। হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই ভারত পাকিস্তানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে সব ধরনের আমদানি বন্ধ করে দেয় এবং আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
অপারেশন সিন্ধু ও বীরত্বের জয়গান
৭ মে ২০২৫ তারিখের সেই রাতটি ছিল জঙ্গি দমনের ইতিহাসে এক মাইলফলক। ভোররাত ২টো নাগাদ ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি লঞ্চপ্যাডগুলো গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করে ‘অপারেশন সিন্ধু’। প্রায় চার দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ভারতের আঘাতে প্রায় ১০০ জন জঙ্গি খতম হয়। ভারতের এই কঠোর পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে পাকিস্তান কোণঠাসা হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১০ মে সিজফায়ার ঘোষিত হলেও এই অপারেশন প্রমাণ করে দেয় যে, সীমানা পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করলে ভারত আর চুপ করে বসে থাকবে না।
পহেলগামের ক্ষত ও বর্তমান পরিস্থিতি
হামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও পহেলগামের পর্যটন শিল্পে সেই ক্ষত আজও দৃশ্যমান। বৈসরণ, আরু ও বেতাব ভ্যালির মতো দর্শনীয় স্থানগুলো থেকে একসময়ের সেই চিরচেনা জৌলুস হারিয়ে গেছে। পর্যটকদের মনে এখনো সেই আতঙ্কের রেশ কাটেনি, ফলে স্থানীয় অর্থনীতিও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে ভারতীয় সেনার কঠোর নজরদারি ও ‘অপারেশন সিন্ধু’-র মাধ্যমে দেওয়া কড়া বার্তা উপত্যকায় দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ২২ এপ্রিল ২০২৫ সালে পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যার প্রতিশোধ নিতে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিন্ধু’ চালায়।
- তদন্তে প্রমাণিত হয় এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং লস্কর-ই-তৈবা।
- ৭ মে শুরু হওয়া অভিযানে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে প্রায় ১০০ জন জঙ্গিকে খতম করে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
- এই হামলার এক বছর পূর্ণ হলেও পহেলগামের পর্যটন ব্যবসায় এখনো মন্দাভাব কাটেনি।