ক্ষমতা থাকলে আটকাও, গন্ডগোল করলেই হাজির হব আমি! কড়া হুঙ্কার মমতার

লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার জগদ্দলের নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরের অন্তত তিনটি ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ‘ছাপ্পা ভোট’ করানোর গভীর ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি। বিশেষ করে ৬৩ ও ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি সরাসরি কেন্দ্রের শাসক দলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।
চেনা মেজাজে হুঙ্কার ও আক্রমণ
অন্নপূর্ণা কটন মিলের মাঠে সোমনাথ শ্যামের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় মুখ্যমন্ত্রী স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি ভাবছে আমাকে বিপাকে ফেলবে। যেখানে গন্ডগোল হবে, আমি নিজেই সেখানে গিয়ে হাজির হব। ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।” একইসঙ্গে জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমারকে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, টিকিট না পেয়েই ওই প্রার্থী দলবদল করেছেন।
কমিশনকে কড়া চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক প্রভাব
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সভার অনুমতি দ্রুত মিললেও তাঁর সভায় বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁকে নির্বাচনী প্রচার থেকে ‘ব্যান’ করার প্রসঙ্গেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এমন পদক্ষেপ নিলে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ হবে। ব্যারাকপুরের এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া ‘বিচুটি পাতার ঝোল’ বা ‘ধোঁকার ডালনা’ খাওয়ানোর মতো মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ভোটের ঠিক আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র নিয়ে এই ধরনের অভিযোগ জনমানসে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের স্নায়বিক চাপ তৈরি করতে পারে। এই রণংদেহী মেজাজ তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করলেও বিরোধীরা একে পরাজয়ের আশঙ্কা হিসেবেই দেখছে। শিল্পাঞ্চলে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান ভোটের মেরুকরণ এবং উত্তাপ দুই-ই বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এক ঝলকে
- ভবানীপুরের ৩টি ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় বিজেপি ‘ছাপ্পা ভোট’ দিতে পারে বলে আশঙ্কা মমতার।
- গন্ডগোল হলে নিজে উপস্থিত থেকে প্রতিহত করার সরাসরি চ্যালেঞ্জ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
- নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও সভা করার অনুমতিতে বাধার অভিযোগ।
- বিজেপি প্রার্থী টিকিট না পেয়ে দল ছেড়েছেন বলে দাবি করে সোমনাথ শ্যামের হয়ে প্রচার।