ট্রাম্প সরকারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: ১৫ লক্ষ কোটি টাকার রিফান্ড! ভারতের পকেটে কত আসবে?

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে বড় ধরনের স্বস্তি পেতে যাচ্ছে বিশ্ববাজার। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত বিতর্কিত শুল্ক অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি টাকা (১৬৬ বিলিয়ন ডলার) ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন শীর্ষ আদালত এই শুল্ক প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার পর, ২০ এপ্রিল থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘CAPE’-এর মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। মূলত একতরফাভাবে আরোপিত উচ্চ শুল্কের আইনি ভিত্তি না থাকায় এই বিশাল অঙ্কের অর্থ রিফান্ড করতে বাধ্য হচ্ছে মার্কিন কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ।
ভারতের প্রাপ্তি ও অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জ
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর তথ্যমতে, এই বিশাল রিফান্ডের মধ্যে ভারতের সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব প্রায় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার। ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় ৫৩ শতাংশ এই শুল্কের কবলে পড়েছিল, যার মধ্যে টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং রাসায়নিক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আইনি জটিলতা হলো, এই অর্থ সরাসরি ভারতীয় রপ্তানিকারকরা পাবেন না। নিয়ম অনুযায়ী, যে মার্কিন আমদানিকারকরা শুল্ক পরিশোধ করেছিলেন, কেবল তারাই রিফান্ডের আবেদন করতে পারবেন। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলোকে এই অর্থের ভাগ পেতে মার্কিন অংশীদারদের সাথে নতুন করে বাণিজ্যিক আলোচনা বা সমঝোতা করতে হবে।
খাতভিত্তিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
রিফান্ডের এই অর্থপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৬০ থেকে ৯০ দিন সময় লাগতে পারে এবং মূল অর্থের সাথে সুদও যোগ হবে। ভারতের টেক্সটাইল ও ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য খাত প্রত্যেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার করে ফেরত পেতে পারে, যেখানে রাসায়নিক খাতের অংশ হতে পারে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক বাণিজ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করলেও, আদালতের এই হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন নীতিনির্ধারণী স্বচ্ছতাকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এখন ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনি ও কৌশলগত আলোচনার মাধ্যমে এই বিপুল অর্থের ন্যায্য অংশ নিজেদের অনুকূলে আনা।
এক ঝলকে
- ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১৬৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড শুল্ক ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
- ভারতের রপ্তানি খাত এই রিফান্ড থেকে প্রায় ১০-১২ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও রাসায়নিক শিল্প এই অর্থ ফেরতের মূল সুবিধাভোগী।
- ভারতীয় রপ্তানিকারকদের পরিবর্তে কেবল মার্কিন আমদানিকারকরাই সরাসরি রিফান্ড ক্লেইম করতে পারবেন।