টিকিট ভিখারি বনাম চোরের মা তর্জায় উত্তাল জগদ্দল, নিশানায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী

২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমারের পারস্পরিক আক্রমণ এখন ব্যক্তিগত স্তরে পৌঁছেছে। জনসভা থেকে মমতার করা ‘টিকিট পাওয়ার তদ্বির’ সংক্রান্ত অভিযোগের পাল্টায় কড়া জবাব দিয়েছেন রাজেশ কুমার। ফলে এই রাজনৈতিক তরজা এখন কেবল ভোটের ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সরাসরি পৌঁছে গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায়।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের লড়াই
জগদ্দলের নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তা একসময় তৃণমূলের টিকিট পাওয়ার জন্য তাঁর কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ভাবমূর্তির অস্বচ্ছতা ও আর্থিক অনিয়মের আশঙ্কায় তাঁকে দল সুযোগ দেয়নি। এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তোপ দাগেন রাজেশ কুমার। তিনি একে ‘মিথ্যা তথ্য’ বলে দাবি করে পাল্টা ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ প্রবাদটি ব্যবহার করেন। তাঁর মতে, কর্মজীবনে তাঁর সততার রেকর্ডই সব কথা বলবে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কোনো দলের টিকিট চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
রাজনৈতিক প্রভাব ও কমিশনের ভূমিকা
এই বাকযুদ্ধের জেরে জগদ্দল কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের নেত্রীর অভিযোগের সপক্ষে অনড় থাকলেও বিজেপি প্রার্থীর দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রাক্তন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রধানের এই সরাসরি সংঘাত ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। ইতিমদ্যেই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়ায় বিষয়টি আইনি মোড় নিতে শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমারকে ‘টিকিট ভিখারি’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- পাল্টা আক্রমণে রাজেশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীকে ‘চোরের মা’ বলে সম্বোধন করে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
- তৃণমূলের দাবি নেত্রীর তথ্যে ভিত্তি রয়েছে, অন্যদিকে বিজেপি একে পরাজয়ের ভয় হিসেবে দেখছে।
- জগদ্দল কেন্দ্রে রাজনৈতিক লড়াই এখন নজিরবিহীন ব্যক্তিগত ইগো ও সম্মানের লড়াইয়ে রূপান্তরিত।