মাছে ভাতে বাঙালির পাতে রাজনীতির কাঁটা! ২০২৬-এর নির্বাচনে বড় হাতিয়ার মৎস্য পুরাণ

মাছে ভাতে বাঙালির পাতে রাজনীতির কাঁটা! ২০২৬-এর নির্বাচনে বড় হাতিয়ার মৎস্য পুরাণ

বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি ও আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘মাছ’ এখন রাজনীতির প্রধান ময়দান। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাগযুদ্ধ এবার রান্নাঘরের হাঁড়ি অবধি পৌঁছে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে সরগরম রাজ্য রাজনীতি, যেখানে উন্নয়নের খতিয়ানের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে রুই-ইলিশের লড়াই।

পাল্টা চালে মৎস্য ভোজন

তৃণমূলের এই ‘নিরামিষাশী’ তকমার জবাব দিতে ময়দানে নেমেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্ব। ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাছ খাওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন অনুরাগ ঠাকুর। নিউটাউনের হোটেলে বসে রুই মাছ দিয়ে ভাত খেয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিরোধীদের প্রচার স্রেফ গুজব। একইভাবে স্মৃতি ইরানির ইলিশ খাওয়ার পাল্টা চ্যালেঞ্জ এবং বিজেপি প্রার্থীদের হাতে মাছ নিয়ে প্রচার করার ঘটনা প্রমাণ করছে যে, গেরুয়া শিবির বাঙালির মৎস্য-আবেগকে নিজেদের পক্ষে টানতে মরিয়া।

ভোটের সমীকরণে মাছের প্রভাব

তৃণমূলের কৌশল হলো বিজেপির ওপর একটি কট্টর নিরামিষাশী ছাপ্পা লাগিয়ে দেওয়া, যাতে সাধারণ মানুষের মনে খাদ্যাভ্যাস হারানোর ভয় তৈরি হয়। অন্যদিকে, বিজেপি সেই ভয় কাটাতে জনসমক্ষে মাছ খেয়ে নিজেদের ‘বাঙালি ঘনিষ্ঠ’ প্রমাণ করতে চাইছে। এই লড়াইয়ের মূল কারণ হলো মাছের সঙ্গে বাঙালির আত্মিক ও ধর্মীয় যোগ। মৎস্য অবতার থেকে শুরু করে শুভ কাজে মাছের ব্যবহার—এই ঐতিহ্যকে যে দল নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতে পারবে, ভোটের বাক্সে তাদের পাল্লা ভারী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এক ঝলকে

  • ২০২৬-এর নির্বাচনে বাঙালির মাছ খাওয়ার অভ্যাসকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চ্যালেঞ্জের জবাবে অনুরাগ ঠাকুরের রুই মাছ খাওয়া ও স্মৃতি ইরানির ইলিশ-বাণ এখন চর্চার কেন্দ্রে।
  • বিজেপি প্রার্থীদের মাছ হাতে প্রচার এবং তৃণমূলের ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ শোভাযাত্রা মৎস্য-যুদ্ধকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে।
  • বাঙালির সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আবেগ কাজে লাগিয়ে ভোট ব্যাংক নিশ্চিত করাই এই মাছ-রাজনীতির আসল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *