তাবিজের আড়ালে বীভৎসতা, অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার মা!

তাবিজের আড়ালে বীভৎসতা, অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার মা!

উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলায় এক মৌলভির বিরুদ্ধে অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা করাতে আসা এক নারীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তুকতাক ও ঝাড়ফুঁকের নামে ওই নারীকে মাদ্রাসায় ডেকে এনে তাঁর ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

বিশ্বাসভঙ্গ ও ভয়াবহ অপরাধের বিবরণ
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, তাঁর সন্তান দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ছিল। গ্রামবাসীর পরামর্শে তিনি সন্তানের সুস্থতার আশায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার মৌলভির কাছে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, মৌলভি তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে তাবিজে ভেজানো ‘বিশেষ জল’ পান করতে দেন। সেই জল পানের পরেই জ্ঞান হারান ওই নারী। অভিযোগ উঠেছে, জলে আগে থেকেই মাদকদ্রব্য মিশিয়ে রাখা হয়েছিল এবং সেই সুযোগেই অচেতন অবস্থায় ওই নারীকে ধর্ষণ করেন মৌলভি।

অশ্লীল ভিডিও এবং ব্ল্যাকমেলিং
নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছেন যে, কেবল ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি অভিযুক্ত। নির্যাতনের সময় গোপনে সেই দৃশ্য ভিডিও করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে দীর্ঘ দিন ধরে ব্ল্যাকমেল করা হয়। প্রাণভয়ে ও লোকলজ্জার আশঙ্কায় ওই নারী প্রথমে মুখ না খুললেও, পরে পরিবারের সদস্যদের সব কথা জানান এবং পুলিশের দ্বারস্থ হন।

পুলিশি তৎপরতা ও অভিযুক্তের পলায়ন
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সাহারানপুর পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে এবং নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মৌলভি গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ তাঁর খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এই ঘটনাটি আধুনিক সমাজে চিকিৎসার নামে প্রচলিত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের ভয়ংকর দিকটি আরও একবার জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।

এক ঝলকে

  • অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার জন্য মাদ্রাসায় গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক মা।
  • তাবিজে ভেজানো জলের সঙ্গে মাদক খাইয়ে অচৈতন্য অবস্থায় ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
  • নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ওই নারীকে দীর্ঘ দিন ব্ল্যাকমেল করেছে অভিযুক্ত মৌলভি।
  • পুলিশ মামলা দায়ের করার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *