দিনে ৪০ কাপ চা না হলে চলত না, দুধের জোগান নিশ্চিত করতে সেটেই আস্ত খাটাল বানিয়েছিলেন এই খলনায়ক!

হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে খলনায়ক বললেই সবার আগে ভেসে ওঠে ‘শোলে’ ছবির কালজয়ী চরিত্র গব্বর সিংয়ের কথা। কিংবদন্তি অভিনেতা আমজাদ খান পর্দায় যতটা কঠোর ছিলেন, বাস্তবে ছিলেন ঠিক ততটাই বিনয়ী। তবে তাঁর একটি অদ্ভুত নেশা ছিল যা শুনলে অবাক হতে হয়। সাধারণ মদ্যপান বা ধূমপানের চেয়েও তিনি অনেক বেশি আসক্ত ছিলেন সাধারণ দুধ-চায়ের প্রতি। সারাদিনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কাপ চা পান না করলে তিনি কাজই করতে পারতেন না।
চায়ের খোঁজে যখন মহিষ এল শুটিং সেটে
একবার একটি থিয়েটার রিহার্সাল চলাকালীন আমজাদ খান চা খেতে চান, কিন্তু তাঁকে জানানো হয় যে দুধ শেষ হয়ে যাওয়ায় চা দেওয়া সম্ভব নয়। সেই দিন কোনোমতে কাজ শেষ করলেও পরদিন তিনি যা করেছিলেন তা ছিল অভাবনীয়। শুটিং সেটে ফেরার সময় তিনি একা আসেননি, সাথে নিয়ে এসেছিলেন আস্ত দুটি মহিষ। শুটিং চলাকালীন যাতে কোনোভাবেই দুধের অভাব না ঘটে এবং তাঁর চা পানে বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্যই তিনি হাজার হাজার টাকা খরচ করে সেই মহিষগুলো কিনে সেটে বেঁধে রেখেছিলেন।
পারফেকশনিস্ট অভিনেতার নেপথ্য গল্প
কাজের প্রতি আমজাদ খানের নিষ্ঠা ছিল প্রশ্নাতীত। ‘শোলে’ ছবির সেই বিখ্যাত সংলাপ “কিতনে আদমি থে” বলতে গিয়ে তিনি প্রায় ৪০টি টেক দিয়েছিলেন। কেবল নিখুঁতভাবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্যই তিনি বারবার চেষ্টা করে যেতেন। এই অদম্য জেদ যেমন তাঁর অভিনয়ে দেখা যেত, ঠিক তেমনই দেখা যেত ব্যক্তিগত পছন্দের ক্ষেত্রেও। শুটিং সেটে মহিষ নিয়ে আসার ঘটনাটি বলিউডের ইতিহাসে আজও এক মজার ও অনন্য উদাহরণ হিসেবে টিকে আছে।
এক ঝলকে
- অভিনেতা আমজাদ খান দিনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কাপ চা পান করতেন।
- দুধের অভাবে একবার চা না পাওয়ায় তিনি শুটিং সেটে সরাসরি দুটি মহিষ কিনে নিয়ে আসেন।
- চায়ের প্রতি এই তীব্র নেশা থাকার পরও তিনি অভিনয়ের ক্ষেত্রে ছিলেন অত্যন্ত সময়নিষ্ঠ ও সুশৃঙ্খল।
- তাঁর বিখ্যাত সংলাপ ‘কিতনে আদমি থে’ নিখুঁত করতে তিনি ৪০ বার রিটেক দিয়েছিলেন।