দয়ামায়া নেই! নিজের জামাইকেই কেন ভয়াবহ অভিশাপ দিয়েছিলেন শুক্রাচার্য? জানলে শিউরে উঠবেন!

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দানবগুরু শুক্রাচার্যের কন্যা দেবযানীর সঙ্গে রাজা যযাতির বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের সময় শুক্রাচার্য তাঁর জামাতা যযাতিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যেন দেবযানীর বাইরে তিনি অন্য কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত না হন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হন রাজা। দেবযানীর দাসী শর্মিষ্ঠার রূপ ও গুণে মুগ্ধ হয়ে যযাতি গোপনে তাকে বিয়ে করেন এবং সংসারে লিপ্ত হন।
বিশ্বাসভঙ্গ ও শুক্রাচার্যের ক্রোধ
দীর্ঘদিন গোপন থাকার পর যযাতি ও শর্মিষ্ঠার এই সম্পর্কের বিষয়টি দেবযানীর নজরে আসে। স্বামীর এই বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণায় ব্যথিত হয়ে তিনি পিতা শুক্রাচার্যের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। কন্যার চোখের জল দেখে ক্রোধে ফেটে পড়েন শুক্রাচার্য। ধৈর্য হারিয়ে তিনি তাঁর জামাতা যযাতিকে অভিশাপ দেন যে, যৌবনের অহংকারে মত্ত যযাতি মুহূর্তের মধ্যেই জরাগ্রস্ত বা বৃদ্ধ হয়ে যাবেন।
অভিশাপের প্রভাব ও পুরু বংশের উত্থান
শুক্রাচার্যের অভিশাপের ফলে যযাতি তৎক্ষণাৎ বার্ধক্যে উপনীত হন। পরে যযাতি ক্ষমা প্রার্থনা করলে শুক্রাচার্য শর্ত দেন যে, যদি তাঁর কোনো পুত্র নিজের যৌবন পিতাকে দান করে, তবেই যযাতি পুনরায় যৌবন ফিরে পাবেন। যযাতির পাঁচ পুত্রের মধ্যে চারজনই পিতার এই অদ্ভুত প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানান। তবে কনিষ্ঠ পুত্র পুরু সানন্দে নিজের যৌবন পিতাকে দিয়ে দেন। এর ফলে যযাতি তাঁর অবাধ্য চার পুত্রকে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করেন এবং বাধ্য সন্তান পুরুকে পরবর্তী রাজা হিসেবে মনোনীত করেন। এই পুরু থেকেই পরবর্তীকালে বিখ্যাত ‘পুরু বংশের’ সূচনা হয়।
এক ঝলকে
- শুক্রাচার্য তাঁর জামাতা রাজা যযাতিকে প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করায় অকাল বার্ধক্যের অভিশাপ দেন।
- যযাতি গোপনে দেবযানীর দাসী শর্মিষ্ঠাকে বিয়ে করার অপরাধে এই দণ্ড পান।
- যযাতির চার বড় ছেলে যৌবন দান করতে অস্বীকার করলেও ছোট ছেলে পুরু পিতাকে নিজের যৌবন দান করেন।
- সন্তুষ্ট হয়ে যযাতি পুরুকে সিংহাসন প্রদান করেন, যা ইতিহাসে পুরু বংশ নামে পরিচিতি পায়।