‘টুইঙ্কল টুইঙ্কল’ শিখতে আড়াই লাখ টাকা! প্লে-স্কুলের বার্ষিক ফি দেখে চক্ষু চড়কগাছ নেটপাড়ার

শিক্ষা এখন কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ফি কাঠামো এই রূঢ় বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এলকেজি বা ইউকেজি স্তরের এক শিশুর বার্ষিক পড়ার খরচ ২.৫ লাখ টাকারও বেশি দেখে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। সাক্ষী নামের এক নারী এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ফি চার্টটি শেয়ার করে লিখেছেন, “টুইঙ্কল টুইঙ্কল লিটল স্টার শেখার খরচ এখন আড়াই লাখ টাকা!”
বিলাসবহুল সুবিধার আড়ালে ফি-র পাহাড়
ভাইরাল হওয়া নথি অনুযায়ী, স্কুলটির বার্ষিক ফি প্রায় ২,২৪,৭১৮ টাকা। এর সঙ্গে এককালীন অ্যাডমিশন চার্জ হিসেবে দিতে হয় আরও ৪৮,০০০ টাকা, যার মধ্যে ১৫,০০০ টাকা ভর্তি ফি এবং ৩৩,০০০ টাকা ফেরতযোগ্য আমানত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশাল অংকের মধ্যে পরিবহন (বাস), ইউনিফাম, জুতো বা ক্যাফেটেরিয়ার খরচ অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে বছর শেষে অভিভাবকদের পকেট থেকে কয়েক লক্ষ টাকা বেরিয়ে যাওয়া নিশ্চিত।
সাফল্যের হাতছানি নাকি বাণিজ্যিক ফাঁদ
অতিরিক্ত ফি নেওয়ার স্বপক্ষে স্কুল কর্তৃপক্ষের যুক্তি হলো— শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিকক্ষ, উন্নত অবকাঠামো, স্কেটিং রিঙ্ক এবং সুইমিং পুলের মতো আধুনিক সুবিধা। প্রতিটি শিক্ষার্থীর ওপর বিশেষ নজর দিতে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রসংখ্যা সীমিত রাখার দাবিও করে তারা। তবে সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ রাইমস শেখার জন্য এত বিপুল খরচের যৌক্তিকতা নিয়ে। সমালোচকদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার এই বাণিজ্যিকীকরণ মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের ওপর অসহনীয় মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
এক ঝলকে
- কিন্ডারগার্টেনের বার্ষিক ফি ২.৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
- মূল ফি ছাড়াও ভর্তি ও আমানত বাবদ প্রায় ৪৮ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।
- পরিবহন, ইউনিফর্ম এবং খাবারের খরচ এই বিশাল ফি কাঠামোর বাইরে রাখা হয়েছে।
- আধুনিক অবকাঠামো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিকক্ষকে এই উচ্চমূল্যের কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।