কিপ্যাড ব্যবহারের অজুহাতে আমার স্তনে হাত দিত! টিসিএস বিপিও কেন্দ্রে নারী কর্মীদের শ্লীলতাহানি ও ধর্মীয় অবমাননার গুরুতর অভিযোগ

নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) বিপিও কেন্দ্রে নারী কর্মীদের ওপর যৌন ও ধর্মীয় হেনস্থার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২০২৪ সালে কাজে যোগ দেওয়া এক নারী কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। ওই কর্মীর দাবি অনুযায়ী, সহকর্মীরা কেবল শারীরিক শ্লীলতাহানিই নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে তার ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত হেনেছে। বর্তমানে এই ঘটনায় পুলিশের কাছে ১২ জনেরও বেশি নারী কর্মী অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কিপ্যাড ব্যবহারের অজুহাতে শ্লীলতাহানি
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসে কাজ করার সময় অভিযুক্ত শফি শেখ কিপ্যাড ব্যবহারের বাহানায় তাকে স্পর্শ করত এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করত। একইভাবে আসিফ আনসারি ও তৌসিফ আত্তার নামের দুই সহকর্মী তার শারীরিক গঠন নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করত বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই নির্যাতন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ চরমে পৌঁছায়, যখন অভিযুক্তরা রামায়ণ ও মহাভারত নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য শুরু করে।
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও পুলিশের পদক্ষেপ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের আড়াল করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অভিযোগ দায়ের না করতে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। যদিও টিসিএস দাবি করেছে যে তাদের অভ্যন্তরীণ চ্যানেলে কোনো অভিযোগ আসেনি, পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত বলছে কর্তৃপক্ষ মৌখিক অভিযোগগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এই ঘটনা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নৈতিক পরিবেশের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ এ পর্যন্ত অপারেশনস ম্যানেজারসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মোট নয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং মুম্বাইয়ে আত্মগোপন করা নবম অভিযুক্তের জামিনের আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছে। এই ঘটনা করপোরেট কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
এক ঝলকে
- নাসিকের টিসিএস বিপিও কেন্দ্রে ১২ জনেরও বেশি নারী কর্মী যৌন ও ধর্মীয় হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
- অভিযুক্ত সহকর্মীদের বিরুদ্ধে শারীরিক শ্লীলতাহানি এবং হিন্দু দেব-দেবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ।
- পুলিশ এখন পর্যন্ত অপারেশনস ম্যানেজারসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
- কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে তা অস্বীকার করেছে।