ইরানে কি তবে সেনাশাসন? ক্ষমতা হারালেন খামেনিপুত্র মোজতবা, তেহরানের দখল নিল আইআরজিসি!

ইরানে কি তবে সেনাশাসন? ক্ষমতা হারালেন খামেনিপুত্র মোজতবা, তেহরানের দখল নিল আইআরজিসি!

ইরানের রাজনীতিতে যে চরম অস্থিরতার আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে করা হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত কি তাই সত্য হতে চলেছে? সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইরানের শাসনকাঠামোতে এক অভাবনীয় রদবদল ঘটেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে ভাবা হচ্ছিল ছেলে মোজতবা খামেনেইকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, মোজতবাকে কার্যত সরিয়ে দিয়ে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সামরিক বাহিনী বা ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। এর ফলে দেশটিতে বেসামরিক শাসনের অবসান ঘটে সামরিক একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সামরিক অভ্যুত্থানের পথে আইআরজিসি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি বর্তমানে ইরানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এমনকি দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এখন ক্ষমতাহীন এবং অসহায়। কোনো প্রশাসনিক নিয়োগ বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কোনো হাত নেই। সম্প্রতি গোয়েন্দা মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছেন আইআরজিসি প্রধান আহমেদ ওয়াহিদি। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে এখন থেকে সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নিয়োগ সরাসরি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে।

রহস্যজনক অন্তর্ধানে মোজতবা খামেনেই

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর থেকেই মোজতবা খামেনেইর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তাকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না এবং তিনি গুরুতর আহত বলে অনেক মার্কিন কর্মকর্তা ধারণা করছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই আইআরজিসি একটি ‘সামরিক কাউন্সিল’ গঠন করেছে যারা এখন ইরানের ভাগ্য নির্ধারণ করছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের ভেতরেও ক্ষমতার দ্বন্দ প্রকট হয়েছে। আলি আসগর হেজাজির মতো প্রভাবশালী কর্মকর্তারা মোজতবার নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা আইআরজিসি-র ক্ষমতা দখলের পথকে আরও প্রশস্ত করেছে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব

ইরানের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সামরিক শাসন দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যখন ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল আলোচনার পথকে সংকুচিত করে তুলবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যটি যেন অনেকটা অজান্তেই আইআরজিসি-র হাত ধরে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বহির্বিশ্বের চাপ এবং দেশের ভেতরে সামরিক বাহিনীর আধিপত্য ইরানকে বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছেলে মোজতবা খামেনেইকে সরিয়ে দিয়ে দেশটির শাসনভার দখলে নিয়েছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি।
  • প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
  • নিখোঁজ মোজতবা খামেনেই বর্তমানে কোথায় আছেন বা তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
  • আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দেশটিকে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক শাসনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *