সাবধান! ইভিএম বোতামে আঠা বা সুগন্ধি দিলেই হাজতবাস, কড়া নিয়ম আনল নির্বাচন কমিশন!

ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম কারচুপির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ইভিএমের বোতামে সুগন্ধি, আঠা, রং বা কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থ লাগানো এখন থেকে গুরুতর নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি এই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেন এই কঠোর বিধিনিষেধ
অতীতে কিছু রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, তারা নির্দিষ্ট প্রার্থীর বোতামে গোপনে আঠা বা তীব্র সুগন্ধি লাগিয়ে রাখতেন। এর ফলে পরবর্তী ভোটার কোন বোতাম টিপছেন, তা আঙুলের ছাপ বা সুগন্ধির রেশ দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হতো। এতে ভোটের গোপনীয়তা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়। এই জালিয়াতি রুখতে প্রিজাইডিং অফিসারদের নিয়মিত বিরতিতে ব্যালট ইউনিট পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো মেশিনে কারচুপির প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বাতিল করে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করা হতে পারে।
বাংলার প্রথম দফার লড়াই
আগামীকাল ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে প্রায় ৩.৬০ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ১৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই দফায়। শেষ মুহূর্তের প্রচারে বিজেপি ও তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারা মাঠ কাঁপালেও, ভোটারদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভোটদান নিশ্চিত করাই এখন কমিশনের মূল চ্যালেঞ্জ।
এক ঝলকে
- ইভিএমের বোতামে আঠা, সুগন্ধি বা রং লাগানো এখন থেকে গুরুতর নির্বাচনী অপরাধ।
- কারচুপি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বুথে ভোট বাতিল ও পুনর্নির্বাচন হতে পারে।
- ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে।
- পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি আসনে প্রায় ৩.৬০ কোটি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।