ভারত-নেপাল সীমান্তে বাণিজ্য যুদ্ধ! নেপালের কড়া শুল্কে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের, তলানিতে বিকিকিনি

ভারত-নেপাল সীমান্তে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও সামাজিক সম্পর্কে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি নেপাল সরকার ভারতীয় যানবাহনের ওপর দৈনিক ১০০ থেকে ৪০০ রুপি পর্যন্ত ‘ভনসার’ বা কస్టমস শুল্ক আরোপ করার পর পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। এর ওপর ১০০ নেপালি রুপির বেশি মূল্যের পণ্যের ওপর ৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক বাধ্যতামূলক করায় সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের সীমান্ত জেলাগুলোর অর্থনীতি অনেকাংশে নেপালি ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় স্থানীয় বিক্রেতারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারের মন্দা
নতুন এই শুল্ক কাঠামোর কারণে ভারত থেকে নেপালে যাওয়া ডাল, চিনি, ভোজ্য তেল ও কাপড়ের দাম এক ধাক্কায় ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিক্রির ওপর। সিদ্ধার্থনগর ও মহারাজগঞ্জ সীমান্তে নেপালি ক্রেতাদের সমাগম কমে যাওয়ায় দৈনিক বিক্রি প্রায় ১৫-২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যেখানে প্রতিদিন কয়েক কোটি রুপির লেনদেন হতো, সেখানে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। বিহারের রক্সৌল ও বাগাহা সীমান্তেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের পাইকারি বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
কঠোর নজরদারি ও অর্থনৈতিক প্রভাব
সীমান্তে নেপালি সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কড়া নজরদারি ও কড়াকড়ির ফলে সাধারণ ক্রেতারা এখন আর পণ্য নিতে সাহস পাচ্ছেন না। আগে যারা সাইকেল বা বাইকে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় রেশন নিয়ে যেতেন, তারা এখন কাস্টমস কর্মকর্তাদের হয়রানি ও পণ্য বাজেয়াপ্ত হওয়ার ভয়ে শূন্য হাতে ফিরছেন। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের সীমান্ত সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের ৬০-৭০ শতাংশ আয় আসত নেপালি ক্রেতাদের কাছ থেকে। কিন্তু এই নতুন নীতি ‘রুটি-বেটি’র ঐতিহাসিক সম্পর্কে ফাটল ধরার পাশাপাশি সীমান্ত অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- নেপাল সরকার ১০০ রুপির বেশি মূল্যের ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে।
- এর ফলে সীমান্ত এলাকায় চিনি, তেল ও কাপড়ের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
- উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের সীমান্ত জেলাগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্যে ১৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ধস নেমেছে।
- কড়াকড়ি ও পণ্য বাজেয়াপ্ত হওয়ার ভয়ে নেপালি ক্রেতারা ভারতীয় বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।