প্রতিবেশীদের রক্ষাকবচ ভারত! জ্বালানি সংকটে মোক্ষম চালে চীনকে মাত দিল নয়াদিল্লি

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। আমদানিনির্ভর এই অঞ্চলের দেশগুলো যখন তীব্র অর্থনৈতিক ও সরবরাহ সংকটের মুখে, তখন ‘এনার্জি ডিপ্লোমেসি’ বা জ্বালানি কূটনীতিতে অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে ভারত। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল ও মালদ্বীপের মতো দেশগুলো এখন নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে বেইজিংয়ের পরিবর্তে দিল্লির ওপর বেশি ভরসা রাখছে।
দ্রুত সহায়তায় ভারতের আধিপত্য
সংকটকালীন মুহূর্তে ভারত ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চীন সাধারণত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়, যা বর্তমানের মতো তাৎক্ষণিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর নয়। অন্যদিকে, ভারত অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হাজার হাজার টন পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি সরবরাহ করছে। ভারতের এই সরাসরি ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা দক্ষিণ এশিয়ার ছোট দেশগুলোকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করছে।
পিছিয়ে পড়ছে চীনের কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের বৃহৎ প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা দিলেও জরুরি পরিস্থিতিতে দেশগুলোর প্রাথমিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে কৌশলগত দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব আরও সুসংহত হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারতের এই নির্ভরযোগ্য ভূমিকা আঞ্চলিক রাজনীতিতে দেশটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। দিল্লির এই সময়োচিত পদক্ষেপ কেবল মানবিক সহায়তা নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল প্রতিবেশী বলয় গড়ে তোলার পথে বড় ধরনের মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি হওয়া তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।
- চীন দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামো প্রকল্পে গুরুত্ব দিলেও তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় ভারতের সরবরাহ ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
- শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাঠানোর পাশাপাশি নেপাল ও মালদ্বীপের চাহিদা পূরণেও ভারত বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
- এই ‘এনার্জি ডিপ্লোমেসি’র ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বেইজিংয়ের চেয়ে দিল্লির কৌশলগত প্রভাব ও বিশ্বাসযোগ্যতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।