“পড়াশোনা নেই, উপার্জন নেই, ওষুধও নেই, তৃণমূলকে এবার যেতেই হবে!” বাংলায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর হুঙ্কার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। ঝাড়গ্রামের জনসভা থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং চিকিৎসার বেহাল দশা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল সরকারের বিদায় এখন সময়ের অপেক্ষা। বিশেষ করে নারী উন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া জনজাতিদের কল্যাণে কেন্দ্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজ্য বাধা সৃষ্টি করছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
নারী শক্তি ও জনজাতি উন্নয়ন নিয়ে তোপ
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে সংসদে তৃণমূলের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৯ সাল থেকে মহিলারা এই সংরক্ষণের সুবিধা পেতে শুরু করবেন। কিন্তু তৃণমূল এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে বাংলার ৩৩ শতাংশ নারীর বিধায়ক বা সাংসদ হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি বীরহোড়, টোটো এবং লোধার মতো অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া জনজাতিদের জন্য আনা ‘পিএম জনমন’ প্রকল্প রাজ্য সরকার কার্যকর করতে দিচ্ছে না বলে তিনি সরব হন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই এই উন্নয়নের ধারা রাজ্যে সরাসরি পৌঁছাবে।
কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা ও বিদ্যুৎ বিল থেকে মুক্তি
কৃষকদের মন জয়ে ঝাড়গ্রামের সভা থেকে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদী। বিজেপি ক্ষমতায় এলে আলু ও ধান চাষিদের সিন্ডিকেট রাজ থেকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি ধানের সহায়ক মূল্য (MSP) ৩১০০ টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কিষাণ সম্মান নিধির পরিমাণ বার্ষিক ৬০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য ‘পিএম সূর্য ঘর’ প্রকল্পের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার এলে পর্যাপ্ত বিদ্যুতের পাশাপাশি মানুষ বিদ্যুৎ বিল থেকেও মুক্তি পাবেন।
এক ঝলকে
- শিক্ষা, চিকিৎসা এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর।
- পিছিয়ে পড়া জনজাতিদের জন্য ‘পিএম জনমন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকার বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ।
- ধানের সহায়ক মূল্য ৩১০০ টাকা এবং কিষাণ সম্মান নিধি ৯০০০ টাকা করার বড় ঘোষণা।
- ‘পিএম সূর্য ঘর’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিলের বোঝা থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি।