শাশুড়ির দায়িত্ব না নিলে বাতিল হবে চাকরি, কড়া হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের

অনুকম্পামূলক নিয়োগ কোনো ব্যক্তিগত উপহার বা উত্তরাধিকার নয়, বরং মৃত কর্মীর পরিবারের আর্থিক সংকট মেটানোর একটি মাধ্যম। ছত্তিশগড় হাইকোর্টের বিচারপতি এ.কে. প্রসাদ এক মামলার শুনানিতে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি কোনো পুত্রবধূ অনুকম্পার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার পর তাঁর আশ্রিত শাশুড়ির ভরণপোষণ না করেন, তবে তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হতে পারে।
দায়িত্ব পালনে অনীহা ও আইনি জটিলতা
মামলাটি অম্বিকাপুরের বাসিন্দা জ্ঞানতী তিওয়ারির। তাঁর স্বামী ও পুত্র—উভয়ই পুলিশ বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন মারা যান। ছেলের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী নেহা তিওয়ারি অনুকম্পা ভিত্তিতে চাকরিতে যোগ দেন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শাশুড়ির প্রতি নেহার আচরণ বদলে যায় এবং তিনি শাশুড়ির ভরণপোষণ করতে অস্বীকার করেন। অথচ নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, পরিবারের বাকি সদস্যদের দেখাশোনা করার শপথপত্র জমা দিয়েই তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্ট জানিয়েছে, অনুকম্পামূলক নিয়োগের সঙ্গে কিছু আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতা জড়িয়ে থাকে। মৃত কর্মীর স্থানে চাকরি পাওয়ার অর্থ হলো তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দায়িত্ব নেওয়া। যদি কোনো কর্মী এই শর্ত লঙ্ঘন করেন, তবে সরকারি নিয়ম মেনেই তাঁর চাকরি কেড়ে নেওয়া সম্ভব। এই মামলার ক্ষেত্রেও পুত্রবধূ যদি তাঁর শাশুড়ির যত্ন নিতে ব্যর্থ হন, তবে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত।
সামাজিক প্রভাব ও বার্তা
এই নির্দেশের ফলে সমাজে একটি জোরালো বার্তা পৌঁছেছে যে, সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেবল ব্যক্তিগত ভোগের জন্য নয়। পরিবারের অসহায় সদস্যদের অসহায় রেখে সরকারি পদের অপব্যবহার আইনত দণ্ডনীয়। আদালতের এই অবস্থান ভবিষ্যতে অনুকম্পা ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের নৈতিক দায়িত্ব পালনে বাধ্য করবে এবং প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
এক ঝলকে
- স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলের স্ত্রীর অনুকম্পা চাকরি পাওয়া নিয়ে ছত্তিশগড় হাইকোর্টে মামলা।
- শাশুড়ির দেখাশোনা না করলে পুত্রবধূর সরকারি চাকরি বাতিলের হুঁশিয়ারি দিল আদালত।
- হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনুকম্পামূলক নিয়োগ কোনো উপহার বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
- নিয়োগের সময় দেওয়া শর্ত ও শপথপত্র অমান্য করাকে চাকরির নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে।