ভোটের আগেই কাঁপছে বাংলা ও তামিলনাড়ু, কমিশনের হাতে জব্দ ১ হাজার কোটি টাকা!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ও উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থানে রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। আজ বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু থেকে ইতিমধ্যে ১,০৭২.১৩ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের এই বিশাল পরিমাণ অর্থ ও দ্রব্যসামগ্রী উদ্ধার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
কঠোর নজরদারি ও অভিযানের সাফল্য
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট জব্দকৃত অর্থের মধ্যে তামিলনাড়ু থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫৯৯.২৪ কোটি টাকা এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাওয়া গেছে ৪৭২.৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল নগদ অর্থই রয়েছে ১২৭.৬৭ কোটি টাকা। বাকি অংশ জুড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মদ, মাদকদ্রব্য, সোনা-রুপার মতো মূল্যবান ধাতু এবং ভোটারদের প্রলুব্ধ করার জন্য মজুত রাখা বিভিন্ন উপহার সামগ্রী। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ‘নির্বাচন জব্দ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি’ কার্যকর হওয়ার পর এই অভিযানে অভাবনীয় গতি এসেছে।
মাঠে নেমেছে ১০ হাজার বিশেষ দল
ভোটারদের প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা রুখতে দুই রাজ্যেই কঠোর নজরদারি বলয় তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে দুই রাজ্যে মোট ৫,০০০টির বেশি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৫,৩০০টির বেশি স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিম কাজ করছে। এই বিশেষ দলগুলো আকস্মিক তল্লাশির পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগের ভিত্তিতে ১০০ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করছে। নাগরিকদের সুবিধার্থে ইসিআই-এর পক্ষ থেকে ‘সি-ভিজিল’ (C-Vigil) অ্যাপের মাধ্যমে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের খবর জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো পেশিশক্তি ও অর্থের কালো প্রভাবমুক্ত একটি স্বচ্ছ নির্বাচন সম্পন্ন করা। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো যাতে সাধারণ মানুষকে কোনো প্রলোভন দেখাতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর দেওয়া হচ্ছে। তবে এই চিরুনি তল্লাশির সময় সাধারণ মানুষের যেন কোনো অহেতুক হয়রানি না হয়, সে বিষয়েও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু থেকে মোট ১,০৭২.১৩ কোটি মূল্যের সামগ্রী ও নগদ জব্দ।
- জব্দকৃত তালিকার মধ্যে নগদ অর্থ ছাড়াও আছে মাদক, মদ ও মূল্যবান ধাতু।
- অপরাধ দমনে দুই রাজ্যে ১০,৩০০টির বেশি বিশেষ নজরদারি দল মোতায়েন।
- স্বচ্ছতার স্বার্থে ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করছে কমিশন।