মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে বিপাকে জাপান, বাণিজ্য ঘাটতি ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল!

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনীতির দেশ জাপানে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার জেরে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি ১.৭ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার সমান। বুধবার জাপান সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই তথ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, এটি টানা পঞ্চম অর্থবর্ষ যেখানে সূর্যোদয়ের দেশটি রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্যিক লোকসানের সম্মুখীন হলো।
শুল্ক যুদ্ধ ও গাড়ি শিল্পে ধস
জাপানের এই অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম নেপথ্য কারণ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্ক নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। জাজল পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে দেশটির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ গাড়ি শিল্প বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে জাপানের গাড়ি রপ্তানি কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ এবং সামগ্রিক রপ্তানি হ্রাসের হার ৬.৬ শতাংশ। রপ্তানি খাতে এমন স্থবিরতা জাপানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধের ঝুঁকি
ইরান কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি জাপানের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দেশটি তার প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের পাশাপাশি চিকিৎসা সামগ্রী ও প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল ন্যাপথার উৎপাদনও সংকটে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমানে জাপানের কাছে ২৫৪ দিনের জরুরি তেলের মজুত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কায় টোকিও এখন বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এক ঝলকে
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি ১.৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্ক নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জাজল গাড়ি রপ্তানি ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল ও ন্যাপথা আমদানিতে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
- জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে জাপানের হাতে বর্তমানে ২৫৪ দিনের তেলের মজুত রয়েছে।