IPAC দপ্তরে ইডি-র অভিযানে কেন মুখ্যমন্ত্রী? নজিরবিহীন মন্তব্যে মমতাকে তুলোধনা শীর্ষ আদালতের!

IPAC দপ্তরে ইডি-র অভিযানে কেন মুখ্যমন্ত্রী? নজিরবিহীন মন্তব্যে মমতাকে তুলোধনা শীর্ষ আদালতের!

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর কার্যালয়ে ইডির তল্লাশি চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিত হওয়া ও হস্তক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের বাধাদানকে গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালত সাফ জানিয়েছে, কোনো রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান এমনভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন না যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

কেন্দ্র-রাজ্য বিবাদ নয়, এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হলে আদালত তা নাকচ করে দেয়। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন যে, সংবিধান প্রণেতারা হয়তো কখনও ভাবেননি যে একজন আসীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে তল্লাশিস্থলে পৌঁছে তদন্তে বাধা দেবেন। ইডির আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিরাপত্তা রক্ষী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে জোরপূর্বক আইপ্যাক দপ্তরে ঢোকেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য ও নথিপত্র সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে আদালতের উদ্বেগ

সুপ্রিম কোর্ট শুনানির সময় রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একে একটি ‘অসাধারণ মামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর আগে রাজ্যে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের হেনস্থার প্রসঙ্গ টেনে আদালত জানায়, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি তারা এড়িয়ে যেতে পারে না। ইডি এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার যে আবেদন জানিয়েছে, আদালত তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

এক ঝলকে

  • আইপ্যাক কার্যালয়ে ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনা।
  • তদন্তস্থল থেকে জোরপূর্বক ডিজিটাল তথ্য ও নথি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
  • ঘটনাটিকে কেন্দ্র-রাজ্য বিবাদ হিসেবে মানতে নারাজ শীর্ষ আদালত, বিষয়টিকে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য।
  • মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের আবেদনের শুনানি চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *